জাহাঙ্গীর আলম-ভ্রাম্যামান প্রতিনিধি, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত শেষে জুমার নামাজের পর আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, আজকে শেখ হাসিনাকে একটি ধন্যবাদ না দিলেই নয়। কারণ শেখ হাসিনা ইউনূসকে আমার আগে চিনতে পেরেছে।
এ সময় তিনি অতীতের একটি প্রসঙ্গ তুলে বলেন, শেখ হাসিনা বলতো— আপনি (ইউনূস) সুদখোর, আর আমি ভাবতাম- ইউনূস ভালো মানুষ। কিন্তু পরে বুঝেছি, শেখ হাসিনা তাকে আমার আগে চিনেছে।
কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে আমার ভাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও আমাকে বহিষ্কার করা— এটা আল্লাহতালার রহমত ছিল। তা না হলে এই বয়সে আমাকে কারাগারে যেতে হতো।
স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বঙ্গবীর বলেন, যারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে তাদের গ্রেপ্তার করার আগে আমাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
এক পর্যায়ে তিনি জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শেখ হাসিনাকে যারা পতন ঘটিয়েছে, তাদের আমি প্রথমে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম। কিন্তু জুলাই-আগস্টের পর তাদের কার্যক্রমের একটি কাজও আমার ভালো লাগেনি। আজও আমি ‘জুলাইকে’ সমর্থন করি কিন্তু সেই সময় যা যা ঘটেছে সবকিছু আমি সমর্থন করি না।
মতবিনিময় সভায় বঙ্গবীরের পাশে থাকা সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি যতদিন বেঁচে আছি, আর কোনো দলে যোগদান করব না। আমার ভাই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের নেতৃত্বেই চলবো। যতদিন বেঁচে আছি আপনাদের ভালোবাসায় বাঁচতে চাই। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত জনগণের ভালোবাসা ও ভাইয়ের প্রতি আস্থাকে শক্তি হিসেবে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
এর আগে উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটি নিজ গ্রামে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ও তার ভাই সদ্য কারামুক্ত সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। দীর্ঘদিন পর গ্রামে ফিরে দুই নেতাকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়। এ সময় দুই নেতাকে ঘিরে এলাকাবাসীর মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
Leave a Reply