বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন

দেশকে অস্থিতিশীল করতে এরা ‘লকডাউন’ কর্মসূচি দিচ্ছে : রুহুল কবির রিজভী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৫৬ সময় দেখুন

ঢাকা, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপরে মাসব্যাপী ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ প্রতিযোগিতা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড, কথাবার্তা ও অযৌক্তিক দাবির কারণে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ উৎসাহিত হচ্ছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে এরা ‘লকডাউন’ কর্মসূচি দিচ্ছে। জ্বালাও পোড়াও করছে, মানুষ হত্যা করছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।

 

রিজভী বলেন, দেশ একটি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের একটিই পথ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়া। অথচ দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে রাজপথে নেমেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করছে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে পতিত স্বৈরাচার।

 

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আওয়ামী লীগ গত সাড়ে ১৫ বছর দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছিল। বিরোধী মতের সবাইকেই নজিরবিহীন হামলা মামলা জেল রিমান্ড খাটতে হয়েছে। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম খুন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সর্বশেষ জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শত শত ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করেছে। গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে স্বয়ং শেখ হাসিনা নিজেই। তাই শেখ হাসিনার বিচার হতেই হবে। লকডাউন দিয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে রায় বন্ধ করা যাবে না।

 

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করেছে, পাচার করেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মন্ত্রী এমপিরা লন্ডনে শত শত বাড়ির মালিক, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের অ্যাপার্টমেন্টের মালিক, কানাডার বেগম পাড়ায় আলিশান বাড়ির মালিক। এগুলো সবই এদেশের জনগণের ঘামের টাকা চুরি করে তৈরি করেছে।

 

রিজভী বলেন, দেশের জনগণ অনেক আগেই এই ভাইরাস আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লকডাউন দিয়ে বসে আছে। এখন পতিত স্বৈরাচার দেশের বাইরে বসে যতই লকডাউনের কর্মসূচি দিক কোন লাভ নেই। গত তিন দিনে ফ্যাসিস্টের দোসররা সারাদেশের বাসে-ট্রেনে আগুন দিয়েছে। আগুনে পুড়ে বাসের ড্রাইভার মারা গেছে। এটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র। যখন ক্ষমতায় ছিল তখনো বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এভাবে আগুন জ্বালিয়ে দোষ চাপাতো বিএনপির ঘাড়ে।

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আসন্ন নির্বাচনে অনেক আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে দল একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমাদের সবার উচিত দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করা। মনোনয়ন পাননি বলে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে যেতে হবে। এটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের পরিপন্থি।

 

লকডাউনের নামে আওয়ামী লীগ মানুষ পুড়িয়ে মারছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘অবৈধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও বিচার প্রতিহত করতে লকডাউনের নামে আওয়ামী লীগ মানুষ পুড়িয়ে মারছে। আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার এই সংস্কৃতি যে আওয়ামী লীগের তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।’

 

বিএনপির এই নেতা বলেন, “বিএনপি কখনো সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে না। যারা গণতন্ত্রের জন্য জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করে, তারা জনগণের শত্রু নয়। প্রকৃত শত্রু হচ্ছে সেই স্বৈরাচারী শক্তি যারা ক্ষমতা আঁকড়ে রেখে জনগণের কণ্ঠরোধ করেছে।”

 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, “জিয়া ছিলেন স্বনির্ভর অর্থনীতির স্থপতি। তিনি গণতন্ত্র, উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে দেশকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তিনি কখনো স্বেচ্ছাচারী হননি, বরং গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়েই দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।”

 

তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, “তিনি সর্বদা শালীন ভাষায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জবাব দেন। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে তাঁর অঙ্গীকার সুস্পষ্ট।”

 

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, “মনোনয়ন নিয়ে ভেতরে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু বাইরে যেন বিভক্তি না দেখা দেয়। আমাদের লক্ষ্য ব্যক্তি নয়, ধানের শীষের বিজয়। এই বিজয়ের সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র জড়িত।”

 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন প্রমুখ।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর