বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

সরকার যদি কয়েকটি দলের মন যুগিয়ে চলতে থাকে, তাহলে শহীদদের কাছে তারা আজীবন দায়ী থাকবে : মজিবুর রহমান মঞ্জু

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১৫ সময় দেখুন

ঢাকা, ১২ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, এবি পার্টি ও আপ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সরকারের ‘কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মন যুগিয়ে চলার নীতি’ এখন পরিবর্তন করা জরুরি। তারা বলেন, স্বল্প আস্থার সমাজে সংস্কার ও নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলাই বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘স্বল্প আস্থার সমাজে সংস্কার ও নির্বাচনী ঐক্যের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম। প্রধান আলোচক ছিলেন সেয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক, রাষ্ট্রচিন্তক ও অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক হোসেন খান।

 

সভায় বক্তারা বলেন, গণভোট ও সংবিধান আদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক দুঃখজনক। তারা বলেন, শুরু থেকেই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তে কখনও বিএনপি, কখনও জামায়াত, আবার কখনও এনসিপির চাপ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে—যা বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার একটি বড় কারণ।

 

ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘যে জাতি সমাজ পরিবর্তনের জন্য জীবন দিতে পারে, সেই জাতিই সম্মানিত।’ তিনি বলেন, নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, কারণ কায়েমি স্বার্থবাদীরা নতুন বন্দোবস্ত মেনে নেয় না। আস্থার অভাব ও রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে বাংলাদেশে অলিগার্করা রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, ‘আস্থাহীনতার কারণে আওয়ামী লীগ বেঁচে গেছে, কারণ মানুষ সহজেই ক্ষমা করে দেয়। অপরাধ করলে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে, তবেই পরিবর্তন সম্ভব।’

 

সভাপতির বক্তব্যে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘দেশের প্রশ্নে সব মতদ্বৈততা ভুলে এক হতে হবে। এখনই রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই ফ্যাসিবাদের উপাদান রয়েছে।’

 

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সংবিধানের কোন আর্টিকেলের আলোকে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে গুম করে শিলং পাঠিয়েছিল, সেটার উত্তর দরকার।’ তিনি বলেন, সরকার যদি কয়েকটি দলের মন যুগিয়ে চলতে থাকে, তাহলে শহীদদের কাছে তারা আজীবন দায়ী থাকবে।

 

আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে, রাজনৈতিক শক্তিগুলো ক্ষমতা ভোগের উৎসবে মেতেছে।’ তিনি গণভোটে দুটি ব্যালট রাখার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর সমাজে বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি হলেও পুরোনো রাজনৈতিক চিন্তাধারার কারণে মানুষ আশাহত হয়েছে।’

 

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্র এখন চরম দুর্বল অবস্থায় আছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন জরুরি। সবাইকে ছাড় দিয়ে ঐকমত্য গড়তে হবে।’

 

এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, ‘আমরা জীবিত থাকতে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করবে, এটা হতে পারে না।’

 

আপ বাংলাদেশের সদস্যসচিব আরেফিন মো. হিজবুল্লাহ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখতে শেখ মুজিবের ছবি টানানো বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোগত সংকটই ফ্যাসিবাদকে বাঁচিয়ে রাখছে।’

 

সভায় তিন দলের নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর