বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

শীতের আগমনী বার্তা ও উত্তরের জনপদ

আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৩৪ সময় দেখুন

আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ০৬ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ঋতু বৈচিত্রের দেশ এই বাংলাদেশ। সুজলা-সুফলা, শষ্য-শ্যামলা এই বাংলায় বিচিত্র ঋতুর প্রভাব দেশের অন্য কোথাও না পড়লেও উত্তরের জনপদ এটাকে হাড়ে হাড়ে অনুভব করে প্রতি বছর। শীতকালে প্রচন্ড শীতের প্রকোপ,গ্রীষ্মের দাবদাহে হাঁসফাঁস করা এবং বর্ষায় ফসল,বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি যে প্রভাব ফেলে তা অবর্ণনীয়- এসব যেন নিত্যসঙ্গী উত্তরের মানুষের জীবন চলার পথে।

 

হেমন্তকে বিদায় জানাতে ব্যাকুল হয়ে মুখিয়ে আছে কুয়াশার চাদরে ঢাকা শীতের আগমনের পদযাত্রা। প্রকৃতিকে জানান দিয়েছে শীতের আগমনী বার্তা। তারই পদধ্বনী আজ উঁকি দিচ্ছে ঋতুবৈচিত্রের ঋতু শীতকাল। শীতের আগমনে প্রকৃতি ফিরে পায় এক নতুন জীবন আর জনপদের জন্য বেঁজে ওঠে প্রতিরোধের প্রস্তুতি।

 

রংপুর অঞ্চলের গ্রামগুলিতে একটু একটু করে কখন যেন ঠান্ডার বিস্তার লাভ করেছে- তা ভোর বেলাতে অনেক বেশী অনুভূত হচ্ছে। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর দরজায় কড়া নাড়ছে ঠান্ডা হাওয়ার হিমেল পরশ। ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রকৃতিতে সবুজ ঘাষের উপরে বিন্দু বিন্দু শিশির কণা,বাড়িঘর, পথ-প্রান্তর ও প্রকৃতি হালকা কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ার মত। ঘরের বাইরে এলেই দেহে কাঁপুনী জাগে শিশির বিন্দু পতনের প্রভাবে। সকালের সূর্যটাও সঠিকভাবে সময়মত দৃশ্যমান হয় না। গাছীরা খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

গ্রামের বাজারগুলিতে দেখা মিলছে শীতের সবজির পসরা। শীতকালীন সবজির মধ্যে শীম, লাউ, মূলা, গাঁজর, বাঁধাকপি, ফুলকপি হরেক রকমের সুস্বাদু শাক-সবজিতে ভরে গেছে।

 

ষড়ঋতুর চতুর্থ ঋতু হেমন্তের পরই আগমন ঘটে চিরন্তর সৌন্দর্যের ঋতু শীতের। শীত আসলেই প্রকৃতি তার নিজেকে নানা রূপে, নানা ঢং-এ সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। শীতের সকালের রয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্য এবং মাধুর্য। শীতের সকাল মানেই এক অন্যরকম অনুভূতি। ভোরের ঘন কুয়াশার আবরন আর হাড় কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা শীতের শিহরণ জাগা অনুভূতি মনে দোলা দিয়ে যায়।

 

এই শীতে প্রকৃতি তাঁর রূপ পাল্টায়। শীতে ঝরে পড়ে বৃক্ষের পত্র-পল্লব। প্রকৃতিতে নেমে আসে শুষ্কতা,বিষন্নতা। হাড় কাঁপানো শীতে জবুথুবু হলেও কনকনে শীত মানুষের মাঝে ফিরিয়ে আনে প্রাণচাঞ্চল্য। মানবজীবনে শুরু হয় শীতের সাথে লড়াইয়ের এক প্রতিযোগিতা।

 

শীতকে উপেক্ষা করে মানুষ বেরিয়ে পড়ে আপন আপন গন্তব্যে। শীতকে মানিয়ে নিতে মানুষ খুঁজে নেয় উষ্ণ অনুভূতির নানা উপায়। গায়ে জড়িয়ে নেয় হরেকরকমের শীতবস্ত্র।

 

শীতকালে গ্রামে-গঞ্জে শুরু হয় নানা রঙের মেলার আসর। জনজীবনে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। ঘরে ঘরে শীতের পিঠা-পুলি ও পয়েস তৈরীর ধুম পড়ে যায়। শীতের আর এক আকর্ষণ হলো-খেজুরের রস। গাছিরা ভোরবেলা গাছ থেকে রসের হাঁড়ি নামায়। গাঁয়ের বঁধুরা সারি বেঁধে এসে সে রস নিয়ে যায় বাড়িতে। খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরী করে।খেজুরের গুড়, চালেরগুড়া,নারকেল কুড়ানো দিয়ে তৈরী হয় ভিন্ন স্বাদের ভাঁপা পিঠা। শীতের সকালে রোদে বসে এমন পিঠা খাবার মজাই আলাদা।

 

শীতে তাপমাত্রা একেবারে অনেক নীচে নেমে আসে। কখনও কখনও একাধারে চার-পাঁচদিন পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলে না। রাতে শীত জেঁকে বসে।সবাই লেপ,কাঁথা,কম্বলের নীচে ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকে। বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে তীব্র হাড় কাঁপানো শীত পড়ে আমাদের দেশে।

 

শীতের আশীর্বাদ হলো- প্রকৃতি তার দু’হাত ভরে নানা রকম ফসলে ফসলে ভরিয়ে দেয় ধরণী। শীত এলেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবন হয়ে ওঠে দূর্বিসহ।তাঁরা উপযুক্ত শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করেন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে তাঁদের জন্য কিছু করণীয় অতি জরুরি হয়ে পড়ে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর