বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

চব্বিশোত্তর বাংলাদেশের প্রধান শিক্ষা হলো পরিবর্তন : সালাউদ্দিন আহমেদ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২১৮ সময় দেখুন

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন হলে ‘চব্বিশোত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের ভাবনায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চব্বিশোত্তর বাংলাদেশে আমাদের প্রত্যাশা ও ভাবনা কী? নতুন প্রজন্মের ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সেজন্য আমার এরই মধ্যে তারুণ্যের ভাবনা জানতে সভা-সেমিনার করেছি। চব্বিশোত্তর বাংলাদেশের প্রধান শিক্ষা হলো পরিবর্তন।

 

তিনি বলেন, সবক্ষেত্রে মেধা, জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হবে। সমাজের যে স্তরেই আমরা কাজ করি না কেন, আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা ব্যাপক। কারণ তারা তরুণ প্রজন্মকে শেখান।

 

ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাতিসংঘের সাবেক চিফ অব স্টাফ রেহান এ আসাদ।

 

সেমিনার আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকারের পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট শিরোনামে প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক শাহ মো. শামীম আহমেদ এবং সবাইকে ধন্যবাদ জানান সেমিনার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. এস এম সোহাগ আওয়াল।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডিয়া হলো গবেষণাধর্মী ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার প্রতিষ্ঠান। খাতভিত্তিক গবেষণামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। যাতে আমরা রিসার্চের মাধ্যমে গ্লোবাল পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি। কর্মমুখী ও সময়োপযেগী কারিকুলাম নির্ধারণ করতে হবে। শুধু নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সমাজের জন্য অতি প্রয়োজনীয় নয়, সেজন্য শিক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যবহার পরিবর্তন করা হয়।

 

তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যার কর্মসংস্থান অবশ্যই করতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু সরকারের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না; বরং আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে পরিবর্তন আশা করছি তা সর্বত্রই হতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন শুধু বৈষম্যমূলক চাকরি ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থানের জন্য নয়। সেটি ছিল দীর্ঘ ১৫/১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ শাসনের বিরুদ্ধে জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। যে কারণে দ্রুত গতিতে এক দফার ভিত্তিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয় এবং বহু লড়াই সংগ্রাম ও রক্তের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।

 

তিনি বলেন, যত সংস্কারই অমরা করি না কেন মানসিক সংস্কার আগে করতে হবে। না হলে আমরা যত সংস্কারের কথা বলি না কেন আমরা কিন্তু আইনে রূপান্তর করতে পারব না। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী আইনি রূপান্তর ঘটাতে পারলে জাতির মুক্তি হবে। আসুন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আমরা সবাই একসঙ্গে হই।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, গতকাল একটি দল বলেছে—আমরা নাকি চাপে জুলাই সনদে গণভোটের প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। আমরা বলেছি, জাতীয় নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট হতে পারে। এখন একটি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সুযোগ খুঁজছে। তবে তাদের কিছু দাবি দাওয়া আছে। আমরা আশা করছি সুন্দর সমাধান হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আদেশ জারি ও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আইনি কাঠামো দিতে পারেন। সবই হতে হবে বাস্তবতার নিরিখে এবং আইন দিয়ে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ বাতিলের দাবি তুলতে পারে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।

 

স্বাগত বক্তব্যে ইউট্যাবের মহাসচিব ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, আমাদের দল বিএনপি মনে করে একটি জাতি গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু শিক্ষাকে হতে হবে সম্পূর্ণ কর্মসংস্থানমুখী ও যুগোপযোগী। গত কয়েক দশকে আমরা দেখেছি সার্টিফিকেটসর্বস্ব একটি শিক্ষা ব্যবস্থা, যা কেবল বেকারত্বের সংখ্যা বাড়িয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে তরুণদের ভাবনা হওয়া উচিত একটি জ্ঞানভিত্তিক ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষার। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে, যেখানে কারিগরি, ভোকেশনাল এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের উদাসীনতার কারণে বাংলাদেশের শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুতরাং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের অবস্থান বদনাম ঘোচাতে হবে। বিগত ১৭ বছরে শিক্ষার জঞ্জাল সরিয়ে শিক্ষাকে বাঁচাতে হবে। কারিকুলাম পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্মমুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

 

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন রুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম, ইউট্যাবের নেতা অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম, অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল, অধ্যাপক ড. আবদুল করিম, অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক ড. ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার, অধ্যাপক খায়রুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ভিসি-প্রোভিসি, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী নেতারা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর