রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর সেনা হেফাজতে থাকা ১৫ কর্মকর্তাকে অবশ্যই আদালতে হাজির করতে হবে : চিফ প্রসিকিউটর

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৪৬ সময় দেখুন

ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ রবিবার (১২ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর সেনা হেফাজতে থাকা ১৫ কর্মকর্তাকে অবশ্যই আদালতে হাজির করতে হবে।

 

তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়ার পর কাউকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা যাবে না, আদালতেই তাদের উপস্থিত করতে হবে।’

 

এর আগের দিন শনিবার সেনাসদরের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

তবে সেনাসদরের এ বক্তব্য এখনও ট্রাইব্যুনালের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছায়নি জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বলেননি যে তাদের আটক রাখা হয়েছে। মিডিয়ায় যা এসেছে, আমরা সেটিকে আইনগতভাবে আমলে নিতে পারি না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যদি বলা হয় যে তাদের আটক রাখা হয়েছে, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের অবশ্যই আদালতে আনতে হবে। এটা শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন নয়, সংবিধান এবং ফৌজদারি কার্যবিধিতেও সেটাই বলা আছে।’

 

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, গুম-নির্যাতনের দুটি ও জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের এক মামলায় গত ৮ অক্টোবর ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ জন চাকরিরত ও একজন এলপিআর-এ রয়েছেন বলে জানানো হয়।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার করা হয়েছে মানে আদালতের অধীনে চলে যাওয়া। তখন আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন আটক রাখা হবে নাকি জামিন দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র কর্তৃত্ব আদালতের।’

 

তিনি আরও জানান, সেনাসদরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা তথ্য চাওয়া হয়নি। ‘যদি তারা ব্যাখ্যা চান, আমরা অবশ্যই তা দেব,’— বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

 

এদিকে সেনাবাহিনী আগেই জানিয়েছে, তারা ন্যায়বিচারের পক্ষে এবং আইন অনুযায়ী হেফাজতে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

গুমের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার বিকালে ট্রাইব্যুনাল-১ এই পরোয়ানা জারি করে। পরোয়ানাগুলো একই দিন দেশের পুলিশ প্রধান ও সেনাবাহিনীসহ ১২টি সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠানো হয়।

 

টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় এক মামলায় এবং জেআইসিতে গুমের ঘটনায় আরেক মামলায় র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর