রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন

বেনজীরের অর্থপাচার মামলায় মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম ৪ দিনের রিমান্ডে : আদেশ শুনে কাঠগড়ায় ঢলে পড়লেন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৫ সময় দেখুন

ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের পরিবারের অর্থপাচার মামলায় অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

 

রিমান্ড মঞ্জুরের কয়েক মিনিট পরই আসামি এনায়েত করিম চৌধুরী অসুস্থ হয়ে আদালতের কাঠগড়ায় রাখা বেঞ্চে ঢলে পড়েন। তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে বসান। এসময় বিচারক মহানগর দায়রা জজ আদালতের ওসি হাজতকে নির্দেশ দেন নিকটস্থ হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। পরে পুলিশ সদস্যদের কাঁধে ভর দিয়ে তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ হাজতখানায় নেওয়া হয়।

 

শুনানিকালে আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ থেকে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই কন্যা ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

 

এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, বেনজীর আহমেদ সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করেছেন। মামলার অনুসন্ধান চলাকালে অর্থপাচারের সঙ্গে এনায়েত করিম চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

 

বেনজীর আহমেদ নগদে ১১ কোটি টাকার বেশি উত্তোলনের পর এর কোনো বৈধ বিনিয়োগ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

অর্থ উত্তোলনের পর তিনি বিদেশে চলে যান এবং এর উৎস, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন রেখে পাচার করেন।

 

এ অভিযোগে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২), ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়।

 

এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৭৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক।

 

উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় এনায়েত করিম চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় ১৭ সেপ্টেম্বর সহযোগীসহ তার পাঁচ দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর