বিশ্বজিৎ কুমার বসু-ভ্রাম্যামান প্রতিনিধি, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন কাস্টমসে কুলি শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন করে গ্রীন লজিষ্টিক নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রায় ৩০০ কুলি বেকার হয়ে পড়বে এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোটা টাকার বিনিময়ে নতুন কুলি নিয়োগ দেবে জানতে পেরে এ আজ শনিবার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে কুলি শ্রমিকেরা।
বেনাপোল চেকপোষ্ট কুলি শ্রমিক (রেজি নং ২০৮৪ ) এর আয়োজনে শনিবার সকালে বেনাপোল চেকপোষ্ট আন্তর্জাতিক প্যাচেঞ্জার টার্মিনালের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেন। গ্রীন লজিষ্টিক নামে নতুন ঠিকাদার প্রতিস্টান কর্মরত ৩০০ শ্রমিককে বাদ দেওয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদ জানান তারা। কোন ষড়যন্ত্র হলে লাগাতার কর্মসুচির ঘোষনা দেওয়া হবে বলে ঘোষনা দেন তারা।
মানববন্ধন কর্মসুচীতে কুলি শ্রমিক নেতারা বলেন, আমাদের জন্মভুমি বেনাপোলে। আমরা স্বাধীনতার পর থেকে এখানে পৈর্তৃকসুত্রে এই চেকপোষ্টে কুলির কাজ করে থাকি। এ পথ দিয়ে দেশী বিদেশী পর্যটক যাতায়াত করে থাকে । সেই সব যাত্রীদের মালামাল বহন করে যা রোজগার করি তা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চলি।
অন্য সংস্থাকে নিয়োগ দিলে আমরা বেকার হয়ে যাব। আমরা যে ভাবে আছি সে ভাবে কাজ করে যেতে চাই। দ্বিতীয় কোন প্রতিষ্ঠান এসে চেকপোষ্টে আইন করে যাত্রী চলাচল নিয়ন্ত্রন করুক তা আমরা চাই না। বেনাপোল স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ দুর দুরান্ত থেকে পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে অযথা সেবার নামে ৫৭.২৬ টাকা আদায় করছে কিন্তু সেবা দিচ্ছে না। এখন যাত্রীদের ল্যাগেজ পারাপারের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে টাকা উঠাবে কিন্তু যাত্রীরা কোন সেবা পাবে না। পাবে না কোন সুযোগ সুবিধা, তাহলে যাত্রীদের এ হয়রানি ও অর্থদণ্ড দেয়ার কারণ কি। আমরা চাই না এ ঠিকাদার এখানে কাজ করুক।
শ্রমিকদের দাবী বেনাপোলের মাটিতে আমরা যে ভাবে পরিশ্রম করে রোজগার করে খাই সে ভাবে চলবে। কোন বহিরাগত এসে আমাদের উপর হস্তক্ষেপ করুক তা আমরা চাই না। যদি ভালো ভাবে স্থল বন্দর কর্র্তৃপক্ষ আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে এর দাঁত ভাঙা জবাব দেবেন তারা।
মানববন্ধন কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন বেনাপোল পৌরসভার ১ নং ওযার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল মালেক, শ্রমিক ইউনিয়ন (২০৮৪) এর সভাপতি মোবাবরক হোসেন কালু, সাধারন সম্পাদক ইকরামুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, সদস্য ইমরান হোসেন, হুমায়ুন কবির লালটু প্রমুখ।
এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানান শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা নিয়েই যাত্রীসেবা বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে। সমঝোতা করেই সমাধানের আশ্বাস দেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply