রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন

ভূতুড়ে শহরে পরিণত হবে ইসরায়েল : ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন জুমার নামাজের খতিব খাতামি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৩৪ সময় দেখুন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০২ আগষ্ট ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): যদি ইসরায়েল আবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তবে তেলআবিবকে ‘ভূতুড়ে শহর’ বানিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন জুমার নামাজের খতিব আয়াতুল্লাহ আহমাদ খাতামি।

 

শুক্রবার (১ আগস্ট) জুমার খুতবায় তিনি বলেন, শত্রুরা বরাবরই ইরানকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। এখন তারা আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে, কারণ তারা নিজেকে অস্তিত্বের সংকটে দেখছে। কিন্তু আমরা তুফানেও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছি।

 

খাতামি বলেন, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভের বিস্তার প্রমাণ করে যে দুনিয়া দিন দিন ইসরায়েলের প্রতি ঘৃণায় ভরে উঠছে, আর ইরানের প্রভাব বাড়ছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো দেশ সাহসিকতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে- কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে। ইরান তা করেছে।

 

তিনি ইসরায়েলকে একটি ক্যানসারসদৃশ টিউমার হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, যদি এটি মুছে না ফেলা হয়, তাহলে অন্য মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গেও ঠিক সিরিয়ার মতো ব্যবহার করবে ইসরায়েল।

 

আয়াতুল্লাহ খাতামি জোর দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি, কিন্তু যখন আক্রমণ হয়েছে, তখন আমরা জবাব দিয়েছি প্রতিরোধের ভাষায়।

 

তার ভাষ্যমতে, ইসরায়েল ১৩ জুন ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও আবাসিক স্থাপনাগুলোতে ১২ দিন ধরে আক্রমণ চালায়। এর জবাবে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়- নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহানে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এরপর ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’র অংশ হিসেবে ইসরায়েলের দখলকৃত বিভিন্ন শহরে ২২ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

 

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যেটি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।

 

গত ২৪ জুন শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি বর্তমানে কার্যকর থাকলেও, আয়াতুল্লাহ খাতামি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইসরায়েল আবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তবে তেলআবিব এক ভূতুড়ে শহরে পরিণত হবে।

 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলকে রক্ষায় যুদ্ধে নেমেছে, এজন্য ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান আজও ইরানিদের হৃদয়ে বাজে।

 

খাতামি অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অন্তত ২৫টি দেশে আগ্রাসন চালিয়েছে, যা অপরাধের কালো ইতিহাস হিসেবে বিবেচিত।

 

সূত্র : মেহর নিউজ এজেন্সি

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর