বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন

অতি দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা : মির্জা ফখরুল

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ২৪০ সময় দেখুন

ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের এক বৈঠকের পরে সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতি উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে অতি দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকেছিলেন আমরা আলোচনা করেছি। আমরা পূর্বের যে কমিটমেন্ট টু কপারোট উইথ দ্যা ইন্টেরিয়াম গভর্মেন্ট তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা বলে এসেছি। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দ্রুত করা, তরান্বিত করা এবং উনার (প্রধান উপদেষ্টা) যে প্রতিশ্রুত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেয়া হবে আমরা মনে করি অতিদ্রুত সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

 

এ ব্যাপারে ঘোষণা দিয়ে আর যেন কোনো অস্পষ্টতা না থাকে সেই ব্যবস্থাটা নেয়া উচিত দলের তরফ থেকে আমরা সেটা উনাকে বলে এসেছি। এটুকু বলেছেন যে, তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) সেই ব্যবস্থাটা নেবেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা সবসময় যেটা চাইব, অতি দ্রুত নির্বাচন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। রাজনৈতিক সরকার না থাকলে এই সমস্যাগুলো আরও বৃদ্ধি পায় সেজন্য আমরা সেটাই (প্রধান উপদেষ্টাকে) বলেছি।

 

ফেব্রয়ারির টার্গেটে সরকার এগুচ্ছে কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব স্পষ্টভাবে বলেন, আমি তো দেখছি, এগুচ্ছে।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, ক্রাসিস সৃষ্টি হলে প্রধান উপদেষ্টা আমাদের ডাকেন আমি যাই। তবে আমি মনে করি, এই অ্যানজেইমেন্টটা ঘন ঘন হলে আরও ভালো হতো তাহলে হয়ত সমস্যাগুলো তৈরি হতো না।

 

কালকে যেটা হয়েছে একটি বিমান দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক কচি প্রাণ গেছে, আমি নিজেও পরশুদিন দেখতে গিয়েছিলাম এবং আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান শোক জানিয়েছেন, সবাই সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। তার ফলে গতকাল উদ্ভুদ যেটা সমস্যা হয়েছে মূলত মাইলস্টোন স্কুলে দুইজন উপদেষ্টা এবং প্রেস সচিবকে তারা (শিক্ষার্থীরা) অবরুদ্ধ করে রেখেছিলো এবং সেকেটারিয়েটে পরীক্ষা সংক্রান্ত জটিলতায় ছাত্ররা ভেতরে ঢুকে পড়ে। যেটা আমার কাছে মনে হয়েছে, সকলের কাছে মনে হয়েছে যে, এটা একটা প্রশাসনিক একটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে এবং একটা ল অ্যান্ড অর্ডার সিচ্যুয়েশন তৈরি হয়েছিল আপনারা দেখেছে সবাই।

 

তিনি বলেন, তার কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন যে, গোপালগঞ্জে আপনার আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট শক্তিরা যেভাবে একটা ‘রেইন অব ট্রেরর’ সৃষ্টি করেছিল আমরা মনে করি যে, গণতন্ত্র উত্তরণের আমাদের যে প্রক্রিয়া চলছে, জুলাই-আগস্টে কর্মসূচি চালানোর মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শক্তিকে পরাজিত করা হয়েছে সেটা এই জুলাই আগস্ট মাসেই ওই শক্তির আবার উত্থানের একটা নমুনা দেখার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে।

 

এটার জন্যই প্রধান উপদেষ্টা সম্ভবত আমাদেরকে যারা ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, লড়াই কনেছেন তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এই সভা ডেকেছিলেন। আমরা আমাদের পূর্বের যে কমিটমেন্ট সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা সেটা বলেছি।

 

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের নেতৃবৃন্দের সাথে বিএনপি মহাসচিবের এই বৈঠক হয়। আগামী ৩০ আগস্ট ময়মনসিংহে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সমাবেশ উপলক্ষ্যে এই বৈঠক হয়।

 

বৈঠকে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সভাপতি মৃগেন হাগিদের নেতৃত্বে ২০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

 

জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের প্রস্তাব সম্পর্কে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে দলের মহাসচিব বলেন, এটা একটা প্রস্তাব তাদের (জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের)। এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, আলোচনার মধ্যে দিয়ে আসবে।

 

আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি, অন্যান্যদলগুলো দিয়েছে। এখন দেখা যাক আলোচনা মধ্য দিয়ে কোনটা প্রতিষ্ঠিত হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর