রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

এখনো ব্যবহার করা হয়নি শক্তিশালী নতুন ক্ষেপণাস্ত্র : ইরান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫
  • ১৪৫ সময় দেখুন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ জুন ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত সপ্তম দিনে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত মিললেও বাস্তবে যুদ্ধের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় সতর্ক বার্তা দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে তেহরান কঠোর জবাব দেবে।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, “যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।” তিনি স্পষ্টভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দেন এবং ইরানের প্রতিরোধ আরো তীব্র হবে বলেও জানান।

 

খামেনির বার্তার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান এক দফা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায়।

 

ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জেরুজালেম, তেলআবিব, রামাত গ্যান, হোলোন এবং দক্ষিণাঞ্চলের বেয়ার শেভায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

 

ইসরায়েল জানায়, তারা ইতোমধ্যে ইরানের পশ্চিম সীমান্তবর্তী প্রদেশসমূহ—ইলাম, কুর্দিস্তান, পূর্ব ও পশ্চিম আজারবাইজান এবং কেরমানশাহ—এর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি, এতে ইরানের হামলার সক্ষমতা অন্তত ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

 

তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। বরং ইরান জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ব্যবহারই শুরু করেনি।

 

বুধবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা নতুন প্রজন্মের উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা আগের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর চেয়ে অনেক বেশি গতিসম্পন্ন ও দূরপাল্লার।

 

তারা আরও জানায়, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে এবং এগুলোর পরবর্তী ধাপ এখনো মজুদেই আছে।

 

যুদ্ধ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এখন একটি টেকনিক্যাল এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের দিকেও এগোচ্ছে।

 

একদিকে ইসরায়েল সরাসরি হামলা কমিয়ে প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান নিজেদের সম্ভাব্য ক্ষমতা দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করছে।

 

সংঘাতের সপ্তম দিনে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি ক্রমেই আরও বিস্ফোরক ও অনির্দেশ্য হয়ে উঠছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর