বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন

তবে কি এখন বিদেশি নাগরিকেরা দেশ চালাচ্ছেন : ঊষাতন তালুকদার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০২৫
  • ২৪২ সময় দেখুন

তপু বড়ুয়া-জেলা প্রতিনিধি (রাঙ্গামাটি),২০ মে ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ‘সকল প্রকার বিভেদ ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থি ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করুন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলন জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হউন’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের ৩৬ বছর পূর্তি ও ২৯ তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে রাঙামাটি শহরের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার,বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমিত্র চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ম্রানুসিং মারমা প্রমুখ।

 

সভায় ঊষাতন তালুকদার বলে,দেশে এখন আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। আন্দোলনের নামে দেশের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে, প্রথমে ডিসেম্বর, পরে জুন। এখন আবার শোনা যাচ্ছে সেটাও সম্ভব না। ‘তাহলে কি আপনাদের মধ্যে এখন ক্ষমতার লোভ দানা বেঁধেছে? সাধারণ জনগণ এমনটাই কানাঘুষা করছে।আমরা শুনেছি উপদেষ্টা পরিষদ ও নীতি নির্ধারক অনেকেই বিদেশের নাগরিক। তবে কি এখন বিদেশি নাগরিকেরা দেশ চালাচ্ছেন?

 

চুক্তি বাস্তবায়নে এই সরকার তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নতুন নেতৃত্বকে চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন দেশের সকল জাতি, গোষ্ঠি, রাজনৈতিক দল, সরকারসহ সকলের কাছে দাবি জানাই আসুন আমরা সবাই আন্তরিকতার সাথে পার্বত্য সমস্যাগুলো অনুধাবন করি। সমাধানের পথ খুঁজি। কিন্তু দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠি ও সরকার তা করছে না। এটা চরম হতাশার, একই সাথে আমার ক্ষুদ্ধ হচ্ছি। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আমরা অন্তবর্তি সরকারের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তারা এখনো কোন উদ্যোগ নেয়নি।

 

ঊষাতন তালুকদার বলেন, বিভেদ সৃষ্টি করে যাদের জন্ম তারাই আজ ‘এগত্তর এগত্তর’ বলে গলাবাজি করছে। তারা কি চুক্তি করার সময় কি এক মিনিটও সময় দিয়েছে ? আলোচনায় এসেছিলো ? সেটা যখন করেনি, তাহলে এখন কোন অজুহাতে চুক্তির বিরোধিতা করছেন? এগত্তর তো আপনারাই হননি। এখন কেন মুখে ফেনা তুলছেন? এসব বিভেদপন্থিদের নিয়ে আপনারা সচেতন থাকতে হবে। তারা একেক সময় একেক জনের ঘাড়ে সওয়ার হন। যেমনটা অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের ঘাড়ে চেপে মাইকেল চাকমা সংস্কার কমিশনের সভায় যোগ দিয়েছেন।

 

ঊষাতন বলেন,‘ ইউপিডিএফ এখন পাহাড়িদের মনে স্থান না পেয়ে দিল্লীর সুহাস চাকমাকে গুরু মানতে শুরু করেছে । তাদের মতিভ্রম হয়েছে। তারা মনে করেছে সন্তু লারমা মনে হয় শেষ হয়ে গেছে। আমি বলবো ওরা বোকার স্বর্গে বাস করছে। ইউপিডিএফের এসব ছল চাতুরি পাহাড়ের জুম্মরা বুঝে গেছে,তাদের প্রত্যাখান করেছে। তাই নতুন নতুন ফর্মূলা দিয়ে জুম্মদের বোকা বানাতে চাচ্ছে। আপনাদের এসব টনিক পাবলিক আর খায়না।’ তারপরও এসব বিভেদ পন্থিদের সম্পর্কে জনগণকে সকর্ত ও সচেতন করার দায়িত্ব ছাত্রসমাজকে নেয়ার আহবান জানান তিনি।

 

তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যর সম্পদ এখন প্রায় শেষ, তাই সাম্রাজ্যবাদীদের চোখ এখন বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। বাংলাদেশের ওপর তাদের চোখ পড়েছে,সাথে মিয়ানমারের প্রকৃতিক সম্পদ, অন্যদিকে চীনকে শায়েস্তা করতে ছক করছে সাম্রাজ্যবাদীরা। তাই আমাদের দেশকে সিরিয়া,আফগানিস্থান বানানোর পাঁয়তারা করছে। দেশে কি আবার অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হবে? আমরা এটা নিয়ে শঙ্কায় আছি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যমতে আসতে হবে। অন্যথায় কপালে কি আছে সেটা বলা মুশকিল।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর