ঢাকা, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়ার বীরেশ দিঘিতে আজ শুক্রবার দিনব্যাপী মাছ ধরার এক উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রতি ২৬ হাজার টাকা মূল্যের টিকিট কিনে এতে অংশ নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৪ জন শৌখিন মৎস্যশিকারি। সকাল সোয়া ছয়টায় শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। টিকিট বিক্রি থেকে মোট ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা আয় হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি দিঘিতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা চলছে।
প্রতিযোগিতা ঘিরে দিঘির চারপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। লটারির মাধ্যমে শিকারিদের আসন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মাছের টোপ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিযোগীরা। বড়শি দিয়ে মাছ ধরার অপেক্ষায় থাকা শিকারিদের উৎসাহ দিতে চারপাশ থেকে ভেসে আসছে নানা ধরনের চিৎকার ও হইহুল্লোড়। স্থানীয় দর্শকরা ভিড় করেছেন দিঘির পাড়ে। একজন প্রতিযোগী জানিয়েছেন, টিকিটের খরচ ছাড়াও মাছ শিকারের আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ও খাবার তৈরিতে আরও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, দিঘির চারপাশে ২৪টি মাচায় বসেছেন শিকারিরা। লটারির মাধ্যমে তাঁদের আসন ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। মাঝেমধ্যে কোনো মাচা থেকে ‘বড় মাছ, বড় মাছ’ বলে চিৎকার উঠছে। হইহুল্লোড় করছেন শিকারি ও তাঁদের লোকজন।
পৌনে তিন একরের এই দিঘিতে ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ রয়েছে। বিজয়ীদের জন্য মোট ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকার পাঁচটি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম পুরস্কার ২ লাখ, দ্বিতীয় ১ লাখ, তৃতীয় ৫০ হাজার, চতুর্থ ৪৫ হাজার ও পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। একাধিক পুরস্কার জেতার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বেলা দুইটা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন। তিনি সকাল সাতটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত ৪টি কাতলা মাছ শিকার করেছেন, যার ওজন যথাক্রমে ৬ কেজি ৭৪০ গ্রাম, ৬ কেজি ৪৮৫ গ্রাম, ৪ কেজি ৯৭০ গ্রাম ও ৪ কেজি ৫০ গ্রাম। একই গ্রামের সবুজ মিয়া ৪ কেজি ৯০ গ্রাম ওজনের একটি মাছ ধরে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন।
সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প নামের একটি সমিতি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। সমিতির সভাপতি আলী মিয়া জানান, এটি এ বছরের সপ্তম আয়োজন। প্রতিবছর নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শৌখিন শিকারিরা অংশগ্রহণ করেন।
Leave a Reply