মঙ্গলবার রাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াইয়ে শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। ম্যাচের ১১ মিনিটে মাতিয়াস সোলে এবং ১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ডনিয়েল মালেনের লক্ষ্যভেদে রোমা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধে এই দুঃসহ পরিস্থিতির মাঝে মালিক গ্লেজার পরিবারের বিরুদ্ধে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে; মাঠের ভেতরে টেনিস বল ছুড়ে তারা নিজেদের প্রতিবাদ জানান। দুই গোলে পিছিয়ে, গ্যালারিতে সমর্থকদের ক্ষোভ, মাঠে হারের শঙ্কা—সব মিলিয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডে তখন অন্ধকারের ছবি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। ৫৮ মিনিটে অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান। রোমার ডিফেন্ডাররা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়লে পুনরায় নেওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। এরপর থেকেই ম্যাচে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করে মাইকেল ক্যারিকের শিষ্যরা।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে রোমার রক্ষণভাগের ভুলে দারুণভাবে সমতা ফেরান ম্যাথিউস কুনহা। এর ঠিক তিন মিনিট পরেই শিয়া লেসির নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে আনন্দের সেই মুহূর্তে জার্সি খুলে হলুদ কার্ড দেখা কুনহা যোগ করা সময়ে আবারও ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সুবাদে মাঠ ছাড়েন।
শেষদিকে ১০ জনের দলে পরিণত হলেও ইউনাইটেড শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের জয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়। টানা নয় ম্যাচ জয়হীন থাকার পর এই জয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডে স্বস্তির বাতাস ফিরেছে। কুনহার এমন অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং নাটকীয় প্রত্যাবর্তন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শেষ দিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-২ গোলের জয় এনে দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ব্রুনো ফার্নান্দেসের পেনাল্টিতে শুরু, আর ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোলে পূর্ণতা পেল অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে ইউনাইটেড।
Leave a Reply