বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

পায়রা নদীর গর্ভে বাহেরচরের ২০ পরিবার নিঃস্ব, রাস্তার পাশে আশ্রয়

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৪ সময় দেখুন

মোঃ মিজানুর রহমান, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-পটুয়াখালী, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে নতুন করে অন্তত ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে এখন সরকারি রাস্তার পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ নিয়ে এলাকায় দেড়শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই ৩২ নম্বর আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়িসহ আরও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙন নতুন কিছু নয়; দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামটি ক্ষয় হয়ে আসছে। অনেক পরিবার ৮-১০ বার পর্যন্ত ঘরবাড়ি সরিয়ে নতুন করে বসতি গড়েছে। কিন্তু এখন আর জমি না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা সড়কের ওপর আশ্রয় নিচ্ছে। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও অধিকাংশই চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ভুক্তভোগী নিটুলী রানীর সঙ্গে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সর্বশেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে যাওয়ায় এখন রাস্তার পাশে থাকতে হচ্ছে। তার ভাষায়, আর যাওয়ার কোনো জায়গা নাই, সব নদীতে গেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা জাকির খান (৫০) বলেন, অনেক মানুষ আইছে, অনেক কথা কইছি, কিন্তু কোনো কাজ হয় নাই। কেউ আমাগো দিকটা দেখে না। একইভাবে রিপন মাল (৩৭) জানান, বাপ-দাদার সময় থেকে ভাঙন চলছে। জীবনে পাঁচ-ছয়বার ঘর সরিয়েছেন। এখন বাধ্য হয়ে বাজারে ভাড়া বাসায় থাকছেন।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদার দাবি করেন, এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর ওপারে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু বাকেরগঞ্জের লোকজন তা দখল করে রাখায় আমাদের কেউ জমি পায়নি।

ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার বলেন, বারবার ভাঙনে এখন আমাদের কিছুই নাই। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর থাকতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানান।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আঙ্গারিয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনে তার ওয়ার্ড প্রায় বিলুপ্তির পথে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রাম রক্ষায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাহেরচর গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে এবং আরও শতাধিক পরিবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর