বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১১ অপরাহ্ন

মেধাবী তরুণরাই নতুন রাজনীতির নেতৃত্ব দেবে এবং বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই : শিক্ষামন্ত্রী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৩ সময় দেখুন

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মেধাবী তরুণরাই নতুন রাজনীতির নেতৃত্ব দেবে এবং বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে দিনব্যাপী এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ক্লাসে শিক্ষকের লেকচার শোনা এবং তা মুখস্থ বা আত্মস্থ করাই শিক্ষার শেষ নয়। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান ও শিল্পের সংযোগ তৈরি করতে হবে।’

চীনের কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চীনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পের একটি কার্যকর যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কোন বিষয়ে দক্ষ হবে, কোথায় কর্মসংস্থান পাবে এবং কোথায় উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখবে এসব বিষয়ও শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের বিশ্বায়নের যুগে শুধু মুখস্থ করে লেখাপড়া বা ইনোভেশনের পারদর্শিতা কিছুই ঠিক নির্দেশ করছে না।’

শিক্ষার্থীদের মেধা ও সক্ষমতাকে বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় এআই নিয়ে কাজ হচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণদেরও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তরুণদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ শুধু দেশের নেতৃত্বই নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘গ্লোবাল ভিলেজে বাস করতে হলে বিশাল কোনো জায়গা লাগে না। পৃথিবীতে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে মেধা।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার সময় এখনই। পড়াশোনা শেষ করার পর নয়, শিক্ষাজীবন থেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ, দেশ ও বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’ তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কার নারী শিক্ষাবিষয়ক উপবৃত্তি কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন।

নিজের বিদেশে পড়াশোনা ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বিদেশে থেকে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।’

ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্বে আদর্শ, নৈতিকতা ও শালীনতা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’ বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা যেন ক্যাম্পাসে নিরাপদ বোধ করেন, সেজন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক ধারার নেতৃত্ব দিতে হবে তরুণদেরই। শিক্ষার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও তরুণদের চিন্তা করতে হবে।’

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ‘আজ নবীন, আগামী দিনের নেতৃত্ব’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে এ আয়োজন করে। কর্মসূচিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, উপহার, খাবার বিতরণ, আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর