অনলাইন ডেস্ক, ১২ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগের সাত জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যা ও পাহাড়ধস-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্যরা।
মন্ত্রণালয়ের দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে গত এক সপ্তাহে ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। পরে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে।
বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো মোহাম্মদ আশিক (৭) ও মোহাম্মদ মিরাজ (৩)। স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এলাকা প্লাবিত হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে ছয় জেলার পাঁচটি নদীর সাতটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু ও সোমেশ্বরী। তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে গত কয়েক দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশের সর্বোচ্চ ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ফরিদপুরে। এছাড়া চট্টগ্রামের আমবাগানে ১০৬, রাঙামাটিতে ৯০, বান্দরবানে ৮৮ এবং কক্সবাজারে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় সহায়তার জন্য ২ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুর্গত এলাকায় ১ হাজার ৯১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল, ৯১ দশমিক ১ লাখ টাকা এবং ৩৪ হাজার ৪৭০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রান্না করা খাবার, শিশু খাদ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে বিভিন্ন এলাকার দুর্গত মানুষের অভিযোগ, অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো সরকারি সহায়তা পায়নি।
বন্যায় কৃষি খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রামে আউশ ধান, আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারে আউশ ধান, আমন বীজতলা, সবজি ও পান বরজ ক্ষতির মুখে পড়েছে। রাঙামাটিতে আউশ ধান, আমন বীজতলা, সবজি, আদা ও হলুদ চাষে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply