রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন

রংপুরের পীরগঞ্জে রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল এন্ড কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য : রাতের আঁধারে নিয়োগের বৈধতা দেয়ায় বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
  • ৮২ সময় দেখুন

আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ২০ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জে রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল এন্ড কলেজে রাতের আঁধারে নিয়োগ সম্পন্নের অভিযোগ, অবৈধ নিয়োগকে বৈধতা দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সকল প্রকার বিধি-বিধান-কে অমান্য করে, প্রচলিত নিয়মে সকল পদ প্রত্যাশী প্রার্থীদের নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ সময় না জানিয়ে, ,নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণেরর সুযোগ না দিযে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর স্কুল এন্ড কলেজ ওই নিয়োগদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় ৪টি পদে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার করা হয়েছে বলে জানা গেছে । আর ওই অবৈধ নিয়োগ -কে বৈধতা দেওয়ার জন্য সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবেদুল ইসলাম তড়িঘড়ি করে, কোন আনুষ্ঠানিকতা ব্যতিরেকে এলাকার গণ্যমান্য সুধী সমাজ শিক্ষক, কর্মকর্তা- কর্মচারীগণকে না জানিয়ে,রেজুলেশন ছাড়া, সরকারি নিয়মনীতিকে উপেক্ষা মোটা অংকের লেনদেনে ০৪নং কুমেদপুর ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি- মশিউর রহমান বাটুলের ছোট ভাই, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মহিউদ্দিন চান মাস্টারের ছেলে, ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ১নং সহ-সভাপতি, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য, আওয়ামী পরিবারের সন্তান, অত্র প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান (বাবলু) এর নিকট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন মর্মে জানা যায়।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর সহ অনেকেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপ-পরিচালক কার্যালয় বরাবর একাধিক অভিযোগ দাখিল করার পরও কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিগণের সমঝোতা ও মধ্যস্থতায় প্রভাব খাটিয়ে ও মোটা অংকের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে উক্ত অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর নামে বিল বেতনের ( MPO) জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ কাগজপত্র প্রেরণ করেছেন।

এলাকাবাসী আরো দাবি করেন যে, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীগণ বিদ্যালয়ে যোগদান না করেও এবং অদ্যবধি উপস্থিত না হয়েও রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন বলে জানা যায়। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী কে জিজ্ঞাসা করলে,জানা যায়, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীগণকে অত্র প্রতিষ্ঠানে আজ পর্যন্ত কেউ দেখেননি?

বর্তমানে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তগণ অত্র প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের নিয়োগকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, বিধি-বিধান ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুসরণ করা হয়নি। বিধি বহির্ভুত ভাবে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল, করে এলাকার সুষ্ঠু পরিবেশ আইন শৃঙ্খলার অবনতি রক্ষা, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ, সুষ্ঠু পাঠদান সহ সামগ্রিক বিষয় স্বাভাবিক রাখার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর