সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ ব্যারেল (১১.৭ মিলিয়ন) অপরিশোধিত তেল চীনে পাঠিয়েছে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪২ সময় দেখুন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১১ মার্চ ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ ব্যারেল (১১.৭ মিলিয়ন) অপরিশোধিত তেল চীনে পাঠিয়েছে। ট্যাংকার ট্র্যাকারসের মতে, ইরানের তেল রপ্তানি কমে গেলেও, চীন তাদের কৌশলী মজুত বা স্টক পাইলিংয়ের অংশ হিসেবে এ তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। আজ বুধবার (১১ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্যাংকার ট্র্যাকারসের সহপ্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি সিএনবিসিকে জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাঠিয়েছে, যার সবই চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ট্যাংকার ট্র্যাকারস। ফলে কোনো জাহাজ যদি তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দেয়, তবুও সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা যে কোনো জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে; তেহরানের এমন হুমকির পর অনেক জাহাজই নিজেদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দেয়। জাহাজ চলাচলের তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

কেপলারের ক্রুড বিশ্লেষক নিহয়ে খিন সোয়ে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনই ইরানি অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল। তাই এই তেলের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত চীনের দিকেই যেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব জাহাজের চূড়ান্ত গন্তব্য নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা তেলবাহী জাহাজগুলোকে খুব সতর্ক থাকতে হবে বলে সোমবার সিএনবিসিকে জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর ইরান থেকে যেসব ছয়টি তেলবাহী ট্যাংকার যাত্রা করেছে, তার মধ্যে ৩টিই ছিল ইরানের পতাকাবাহী এমন তথ্য দিয়েছেন মাদানি।

ট্যাংকার ট্র্যাকারসের তথ্য অনুযায়ী, একটি ইরানি জাহাজ সেখানে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তুলছিল। গত পাঁচ বছরে এটি সেখানে মাত্র পঞ্চমবারের মতো তেল লোডিং। সোয়ের মতে, জাস্কে নতুন করে তৎপরতা শুরু হওয়া দেখায় যে তেহরান হরমুজ প্রণালি ছাড়াও বিকল্প পথ খুঁজছে। তবে এই রুট বাস্তবে কতটা কার্যকর হতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ চলাচল করে। কিন্তু গত মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখানে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে। অধিকাংশ তেলবাহী ট্যাংকার এখন এই অবরুদ্ধ জলপথ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি বা এর আশপাশে থাকা অন্তত ১০টি জাহাজ হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজে থাকা অন্তত সাতজন নাবিক নিহত হন বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ম্যারিটাইম অর্গানাইজেশন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর