ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০১ মার্চ ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৯টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান।
অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সাহায্যে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা বাহিনী, তবে কয়েকটিকে আটকানো সম্ভব হয়নি। সেসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দেশটিতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন আবং আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।
অন্যদিকে দুবাই থেকেও বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সিএনএন-এর প্রতিনিধিরা স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টার দিকে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।
দুবাইয়ের বিজনেস বে এলাকার আকাশে একটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হলেও সেটির ধ্বংসাবশেষ সরাসরি দুবাইয়ের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর জেবেল আলিতে গিয়ে পড়ে। এর ফলে বন্দর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। স্থানীয় দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি তাদের পরিকল্পিত হামলার অংশ এবং তারা আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিবাদে শুধু আমিরাত নয়, ইসরায়েলেও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। সেখানে তাদের হামলায় ৪০টিরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। খামেনি হত্যার এই শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও পাকিস্তানেও। কাশ্মীরে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার একাংশে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সূত্র : আল জাজিরা
Leave a Reply