বুধবার স্থানীয় সময় অনেক কর্মীকে বাড়িতে থাকার নোটিশ পাঠানো হয়। নিউইয়র্ক টাইমস দুইজন অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, কোম্পানিটি মোট কর্মীর প্রায় ৩০ শতাংশ ছাঁটাই করেছে। এতে শুধু নিউজরুম নয়, ব্যবসায়িক বিভাগও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
২০১৩ সাল থেকে আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানায় রয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। বেজোসের মালিকানার প্রথম আট বছরে পত্রিকাটি সম্প্রসারিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক সংকটে পড়েছে। অনলাইনে লাভজনক সংবাদমাধ্যম হিসেবে টিকে থাকার কার্যকর পথ খুঁজে না পাওয়ায় এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দ্য পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে বুধবার এক ফোন কলে কর্মীদের জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে এবং পাঠকদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, “সব বিভাগই কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত হবে।” ভবিষ্যতে পত্রিকাটি জাতীয় সংবাদ, রাজনীতি, ব্যবসা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি মনোযোগ দেবে এবং অন্যান্য ক্ষেত্র সংকুচিত হবে।
মারে আরও বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের অবস্থান শক্ত করার দিন, যাতে আমরা এই ক্রমবর্ধমান, প্রতিযোগিতামূলক ও জটিল মিডিয়া পরিবেশে মানুষের জীবনে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারি।” তিনি স্বীকার করেন, গত কয়েক বছর ধরে দ্য পোস্ট কঠিন সময় পার করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমের কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থানের কারণে অনলাইন সার্চ ট্রাফিক গত তিন বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে গত পাঁচ বছরে দৈনিক সংবাদ উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ছাঁটাইয়ের ফলে পত্রিকাটির বেশ কয়েকটি বিভাগ বন্ধ বা সংকুচিত করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ক্রীড়া বিভাগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে, যদিও কিছু সাংবাদিক ফিচার বিভাগে থেকে ক্রীড়া সংস্কৃতি কভার করবেন। মেট্রো বিভাগ সংকুচিত হবে, বই বিভাগ ও দৈনিক নিউজ পডকাস্ট বন্ধ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কভারেজও কমানো হবে; মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত একাধিক প্রতিবেদক ও সম্পাদক ছাঁটাই হয়েছেন।
এই ছাঁটাইয়ের ঘটনায় সমালোচনাও উঠেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনরত একজন ইউক্রেন প্রতিবেদক এবং দ্য পোস্টের সব স্টাফ ফটোগ্রাফারকেও ছাঁটাই করা হয়েছে। ইতালিতে শীতকালীন অলিম্পিকস কাভার করা এক ক্রীড়া সাংবাদিক জানিয়েছেন, ছাঁটাইয়ের পরও তিনি প্রতিবেদন পাঠানো চালিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শেষদিকে পত্রিকাটিকে লাভজনক করার লক্ষ্যে জেফ বেজোস উইল লুইসকে প্রকাশক হিসেবে নিয়োগ দেন। দর্শক ও সাবস্ক্রিপশন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে লুইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মন্তব্য, পডকাস্ট ও নিউজ অ্যাগ্রিগেশনসহ নানা পরিবর্তন পরীক্ষা করেন। এর পরপরই আসে এই ব্যাপক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা।
Leave a Reply