মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপ বয়কট না করলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে খেলবে না পাকিস্তান : আইসিসির ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০৩ সময় দেখুন

স্পোর্টস ডেস্ক, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিলেও পরে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা রাজনৈতিক চাপের কারণে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। এই ঘটনায় খেলোয়াড়ের চুক্তিভিত্তিক ক্ষতির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ক্রিকেট সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে, যা ভারতের ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। পাকিস্তানও প্রথমে পুরো টুর্নামেন্ট বর্জনের হুমকি দেয়, পরে কেবল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ভারত ম্যাচ বয়কট করবে পাকিস্তান, এমন ঘোষণার পর থেকেই রীতিমত নড়েচড়ে বসেছে আইসিসি। নিজেদের এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এরইমাঝে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় রকমের আর্থিক ক্ষতি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। গণমাধ্যমের দাবি, এ এক ম্যাচ বয়কটের মাধ্যমেই প্রায় ২০০ কোটি রুপি ক্ষতি হতে পারে।

আগেই ধারণা ছিলো, এবার নিশ্চিতভাবে জানা গেল ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যাচটাই হচ্ছে না ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দিলো, বিশ্বকাপ বয়কট না করলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে খেলবে না পাকিস্তান। তিন লাইনের সেই টুইট রীতিমত নাড়িয়ে দিয়েছে আইসিসির শক্ত অর্থনৈতিক ভিতকে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে ধরা হয়। এক হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই ম্যাচ থেকে আয় হতে পারত প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার (৬ হাজার কোটির বেশি বাংলাদেশি মুদ্রায়)। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন স্লট বিক্রি হয় ২৫–৪০ লাখ রুপিতে, যা একটি ম্যাচে প্রায় ৩০০ কোটি রুপির সমতুল্য।

আইসিসির রেভিনিউ ডিস্ট্রিবিউশন মডেল অনুযায়ী, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সম্ভাব্য আয় কমবে পুরো বিশ্বকাপ আয়ের ৩৬ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকায় আরও ৭ শতাংশ আয়ের ক্ষতি হবে। এর ফলে ২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আইসিসির মোট আয় ৪৩ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচের তুলনায় ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ স্পনসরশিপ, সম্প্রচার স্বত্ব এবং ব্র্যান্ড এক্সপোজারের দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচ না হলে আইসিসি ও সম্প্রচার অংশীদারদের ওপর আর্থিক চাপ ও ক্ষতি বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশও অংশগ্রহণ না করলে সম্ভাব্য আয় হারাবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আধুনিক ক্রিকেট কেবল মাঠের লড়াই নয়, এটি কূটনীতি, করপোরেট বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক দর্শকবাজারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। মোস্তাফিজের ঘটনা দেখাচ্ছে যে একজন খেলোয়াড়কেও কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশাল আর্থিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর