রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

যে কোনো সময় ইরানের ওপর হামলা চালানো হতে পারে : যুক্তরাষ্ট্র

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২০৯ সময় দেখুন
মোহাম্মাদ নাদের-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি (ইউএসএ), ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহেই এমন হামলা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে, যদিও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময় পরিবর্তিন হতে পারে। মঙ্গবলবার (২৭ জানুয়ারি) এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদসংস্থা মিডল ইস্ট আই। সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, হামলার পর ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধ ও এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

এক মাস ধরে ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগকে সামনে রেখে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে ওয়াশিংটন। অভিযোগ রয়েছে, এসব দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে।

প্রথমদিকে বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানালেও পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা কমানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপেই ট্রাম্প এই অবস্থান নেন বলে জানা গেছে।

যদিও কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এতে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক হস্তক্ষেপের ইতি টেনেছে, তবে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কেবল সাময়িক বিরতি।

এর আগে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা থেকে এখনো সরে আসেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জানুয়ারির শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানে ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি সামরিকভাবে প্রস্তুত। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তুতি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে এফ-৩৫, এফএ-১৮ যুদ্ধবিমান ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে। পাশাপাশি জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেয়নি। এই নিষেধাজ্ঞা এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর রয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, আরব দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা হলে সেসব দেশও পাল্টা হামলার মুখে পড়বে।

সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও তুরস্ক প্রকাশ্যে ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছে। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান হামলার পক্ষে রয়েছে। যদিও সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কাজে ব্যবহার করতে দেবে না।

এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে ইরান কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। তবে আগে থেকেই সতর্কবার্তা দেওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলায় নতুন কোনো মার্কিন হামলাকে দেশটির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হতে পারে। এতে ইরান আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে; যেমন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।

এর আগে, ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশে আধিপত্য বজায় রাখলেও ইরান তেলআবিব ও হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দেয়। সৌদি আরবের কাছে থাড ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার অনুরোধ জানালেও রিয়াদ তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর