সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭৫ সময় দেখুন

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): শতাধিক গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলকে এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

 

এদিন জিয়াউলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও তার বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তারা প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করে অব্যাহতির আবেদন করেন তারা। একইসঙ্গে জিয়াউলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন কোনো তথ্যপ্রমাণ আনতে পারেনি বলেও দাবি তাদের।

 

আসামিপক্ষের এসব কথার জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দির কিছু অংশ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর।

 

জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের বিভিন্ন বিভৎসতা তুলে আনেন তিনি। এর মধ্যে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেজর জেনারেল মুজিবকে অনুরোধ করেন ইকবাল করিম। এরপর দেশজুড়ে প্রকাশ্যে বন্দুকযুদ্ধ কিছুটা থেমে যায়। কিন্তু আড়ালে ঠিকই এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেছিলেন জিয়াউল। এছাড়া র‌্যাবের এডিজি পদে আসীন হতেই অস্বাভাবিক হত্যাকাণ্ড বাড়িয়ে দেন তিনি। জিয়াউলের এসব কর্মকাণ্ড থামাতে তখন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুলকে বোঝানোর জন্য বলা হয়।

 

তখন ইকবাল করিমের উদ্দেশ্যে জগলুল বলেন, ‘এমন একজন মানুষকে বোঝাতে বলেছেন। যার মাথা পাথর দিয়ে ঠাসা। তাকে বোঝানোর কোনো উপায় নেই।’

 

নিজের জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া এমনই সব কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান,এ মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। এ ছাড়া আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন তিনি। পরে আদেশের জন্য ১৪ জানুয়ারি ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

 

গত ৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। শুনানিতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক গুম-খুনের দায়ে তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর।

 

জিয়াউলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের প্রথমটি হলো- ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিন হত্যা।

 

দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খাল ঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা।

 

তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ হত্যার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অর্থাৎ দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখিত সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়া।

 

এসব হত্যাকাণ্ডের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিন সকালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

 

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহা-পরিচালক ছিলেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর