শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

ঐতিহাসিক পার্বত্য বড়ুয়া কনভেনশন-২০২৫: ৮ দফা দাবি নিয়ে ‘রাঙামাটি ঘোষণা’, ব্যর্থ হলে ২০২৬-এ হরতাল

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪২ সময় দেখুন

তপু বড়ুয়া-জেলা প্রতিনিধি (রাঙ্গামাটি), ৩০ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ​ “পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোতে নিজেদের যথাযথ স্বীকৃতি ও প্রতিনিধিত্বের অভাব নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘পার্বত্য বড়ুয়া’ জনগোষ্ঠী। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য বড়ুয়া কনভেনশন-২০২৫’।

 

​শনিবার (২৬ নভেম্বর ২০২৫) রাঙামাটি সদর উপজেলা মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন, কেন্দ্রীয় কমিটি-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই দিনব্যাপী সম্মেলনের মূল স্লোগান ছিল— “বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য ও অবসান চাই”।

 

​​পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন-এর সভাপতিত্বে কনভেনশনটি উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অজিতানন্দ মহাথেরো। সম্মেলন সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া।

 

​বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সংহতি প্রকাশ করা নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ, রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সদস্য পদ প্রার্থী (বিএনপি)-এর অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণতন্ত্র মঞ্চ সমর্থিত জুঁই চাকমা এবং গণ অধিকার পরিষদ-এর এম এ বাশর। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, বড়ুয়াদের দাবি এখন বৃহত্তর নাগরিক সমাজের ন্যায্য দাবি।

 

​​সম্মেলন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোয় নিজেদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে ৮ দফা মূল দাবি উত্থাপন করা হয়।

 

এই দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান:পার্বত্য চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদসহ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।

 

পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর জন্য তিন পার্বত্য জেলা থেকে সংসদ সদস্য পদ সংরক্ষিত করে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা।

 

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্যে বৌদ্ধ “বড়ুয়া” জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পরিচিতি আলাদাভাবে ছকে সংযুক্ত করা।

 

বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি হিসাবে তিন পার্বত্য জেলা থেকে বড়ুয়া প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা এবং ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও আবাসিক হোষ্টেল নির্মাণ করা।

 

বিদ্যমান সকল প্রকার জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে একটি ‘বৈষম্য বিলোপ কমিশন’ গঠনের জোর দাবি জানানো হয়।

 

​​কনভেনশনের সমাপ্তিতে সংগঠনের মুখপাত্র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন ‘রাঙামাটি ঘোষণা’ প্রকাশ করেন। এই ঘোষণায় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার পাশাপাশি দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে আগামী বছর (২০২৬) কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

 

​এর আগে সকালে রাঙামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়। এই র‍্যালীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের ৪ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর এটিই ছিল এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় র‍্যালী।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর