ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের সামনে সাংবাদিকদের বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. এনামুল হক খান বাবলু বলেছেন, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের প্রধান রপ্তানি খাত— পোশাক শিল্প—মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কার্গো ভিলেজে আগুন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এ ঘটনায় বিজিএমইএ বোর্ড গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে পোশাক শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।’
তিনি জানান, কার্গো ভিলেজে সাধারণত হাই-ভ্যালুড ও জরুরি পণ্যসামগ্রী থাকে, যা এয়ার শিপমেন্টের মাধ্যমে পাঠানো হয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বহু রপ্তানিযোগ্য পোশাক, মূল্যবান কাঁচামাল এবং ব্যবসায়িক নমুনা (স্যাম্পল) সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
‘এই স্যাম্পলগুলো শুধু পণ্য নয়, বরং নতুন ব্যবসার দরজা খুলে দেয়। সেগুলো হারানো মানেই ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সুযোগ হারানোর ঝুঁকি,’ — বলেন এনামুল হক।
তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য বিজিএমইএ সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। একটি অনলাইন ডেটা কালেকশন পোর্টাল চালু করা হয়েছে এবং নির্ধারিত ফরমেটে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চেয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
এনামুল হক বলেন, ‘আমাদের সদস্যদের অধিকাংশই এয়ারে পণ্য পাঠান। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি কারখানার পণ্য কার্গো ভিলেজ থেকে রপ্তানি হয়। ফলে ক্ষতির পরিমাণ বিশাল।’
তিনি আরও জানান, বিজিএমইএ খুব শিগগিরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, কাস্টমস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা করবে।
পোশাক খাতের এই নেতা বলেন, ‘এই বিপুল ক্ষতির প্রেক্ষিতে আমরা সরকারের প্রতি কিছু জোরালো দাবি জানাচ্ছি।’
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ ও সার্বিক সহযোগিতা, পোশাক শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নতুন শিপমেন্ট ব্যবস্থার দ্রুত নিশ্চয়তা।
Leave a Reply