শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

জুম্মজাতির আলোকউজ্জ্বল মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৫৭ সময় দেখুন

তপু বড়ুয়া-জেলা প্রতিনিধি (রাঙ্গামাটি), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): “আজ সোমবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং- সকালে, জুম্ম জাতীয় চেতনার অগ্রদূত মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গামাটি সদরের কালিন্দীপুর এলাকার নিউ মার্কেটস্থ আশিকা কনভেনশন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিশির চাকমা এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয়সহ-সভাপতি, ঊষাতন তালুকদার,পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, সহসভাপতি, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক; অ্যাডভোকেট জুয়েল দেওয়ান, আইনজীবী; বিজয় কেতন চাকমা, সভাপতি, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন; আশিকা চাকমা, সহ সাধারণ সম্পাদক, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিত, রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি; রুমেন চাকমা, সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি।

 

সভায় ঊষাতন তালুকদার বলেন, ঘুমন্ত জুম্মজাতির এক আলোকউজ্জ্বল নাম মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। তিনি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের মধ্যে এখনও আত্মমুখীনতা, সুবিধাবাদী মানসিকতা, আপোষমুখী মানুষ রয়েছে। এই মানসিকতা যদি জুম্ম জনগণ পরিহার করতে না পারে, যতক্ষণ সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে না পারবে, ততদিন বিভ্রান্তের মধ্যে জীবন কাটাতে হবে। তিনি শিক্ষিত ছাত্র যুবসমাজকে নিজেকে জেনে, জাতিকে জেনে এবং পৃথিবীকে জেনে জনসংহতি সমিতির পতাকা তলে এসে নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে জাতির স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

শিশির চাকমা বলেন, শোষণে ভরা একটি জাতিকে সচেতন করে তুলতে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি জরুরি, তা হলো শিক্ষা। সেটিই প্রথম করেছিলেন এম এন লারমা। কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ-পরবর্তী সময়ে ছাত্র-যুবকদের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং শিক্ষক হিসেবে আত্মনিয়োগ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি নিজেও বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষকতার পেশা।একদিকে জুম্ম জনগণের অশ্রুতে নির্মিত পাকিস্তান আমলের কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধ, অন্যদিকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতিগত বৈষম্য। সবকিছুই কেবল এই জুম্ম জনগণকে কাঁদিয়েছিলো। তবে এম এন লারমা পার্বত্য অঞ্চল পেরিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের দুঃখ বঞ্চিত মানুষের জীবনকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সামন্তীয় ঘুণে ধরা ভিন্ন ভাষাভাষী চৌদ্দটি জাতিগোষ্ঠীকে সংঘবদ্ধ করেছিলেন। ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে লড়েছিলেন মানবেন্দ্র লারমা।

 

তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটলে এম এন লারমা নিয়মতান্ত্রিকতার পাশাপাশি অনিয়মতান্ত্রিকতার পথ বেঁচে নেন। অধিকারের লড়াইয়ের সংগ্রাম চলছিল দুর্বার গতিতে। পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিতে যখন অন্তঃকোন্দল শুরু হয়, তখনো তিনি কুচক্রী ও বিভেদপন্থীদের বিশ্বাস করেছিলেন। সে কারণে তিনি দলের মধ্যে ‘ক্ষমা করো ও ভুলে যাও’ নীতি প্রচার করেছিলেন। তবে মানুষের প্রতি তাঁর সেই বিশ্বাস পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে নিয়ে এসেছে কলঙ্কময় অধ্যায়। তাঁরই কিছু বিপথগামী সহকর্মী এই মহান নেতার মহানুভবতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে হত্যা করেছিলেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তাঁর দেখানো পথটি অনুসরণ করে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে যাচ্ছেন তরুণেরা।

আমাদের মুক্তির দিক নির্দেশনা হবে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার চেতনাকে ধারণ করা। লড়াই সংগ্রাম ছাড়া পৃথিবীতে কোনো জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকেনি। তাই তিনি অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তরুণদেরকেই অধিকতর সামিল হওয়ার আহবান জানান ।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর