রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন

হার্টের রিংয়ের দাম কমলো : রিংয়ের দাম ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ২০৮ সময় দেখুন

ঢাকা, ০৪ আগষ্ট ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): হার্টের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট বা রিংয়ের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়েছে সরকার। স্টেন্টভেদে ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হ্রাস করা হয়েছে। এখন থেকে খুচরা পর্যায়ে এসব রিংয়ের দাম ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

 

সোমবার (৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষর করেন।

 

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, তিনটি আমদানিকারক কোম্পানির ১১ ধরনের স্টেন্টের দাম নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত দাম দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কার্যকর হবে। হাসপাতালগুলোতে এই মূল্যতালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে হবে।

 

নতুন তালিকায় সবচেয়ে বড় মূল্য হ্রাস এসেছে ‘সিনার্জি এক্সডি’ স্টেন্টে। যার আগের দাম ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, সেটি এখন ১ লাখ টাকায় পাওয়া যাবে। মেডট্রনিক কোম্পানির ‘রিজলিউট অনিক্স’ স্টেন্টের দাম ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। অ্যাবট কোম্পানির ‘জায়েন্স প্রাইম’ স্টেন্টের দাম কমে হয়েছে ৫০ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা।

 

বোস্টন সায়েন্টিফিক কোম্পানির ‘প্রোমাস এলিট’ স্টেন্ট এখন ৭২ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে, আগে যা ছিল ৭৯ হাজার। একই কোম্পানির ‘প্রোমাস প্রিমিয়ার’ স্টেন্টের দাম ৭৩ হাজার থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৭০ হাজার টাকা।

 

‘জায়েন্স আলপাইন’ এবং ‘জায়েন্স সিয়েরা’ স্টেন্ট দুটির দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। দুটি স্টেন্টের আগের দাম ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা। এখন এই দুটি স্টেন্ট ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে।

 

তবে ‘জায়েন্স এক্সপেডিশন’ স্টেন্টের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে— ৭১ হাজার ৫০০ টাকা।

 

মেডট্রনিক কোম্পানির ‘অনিক্স ট্রুকর’ স্টেন্টের আগের দাম ছিল ৭২ হাজার ৫০০ টাকা, যা কমিয়ে করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

 

হার্টে রিং পরানোর পদ্ধতিকে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বলা হয়। এতে ব্লক হওয়া ধমনীতে সরু এক ক্যাথেটারের মাধ্যমে ছোট জাল আকৃতির নল (স্টেন্ট) বসানো হয়। এটি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। বাংলাদেশে অধিকাংশ স্টেন্ট আমদানি করা হয় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। এসব রিংয়ের তালিকা সাধারণত হাসপাতালের দেওয়ালে টানানো থাকে, সেখান থেকে রোগীরা নিজের প্রয়োজনমাফিক রিং বেছে নেন।

 

সরকারের এই মূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্ত দেশের লাখো হৃদরোগীর চিকিৎসা ব্যয়ে স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর