বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হলে শিক্ষার্থীদের নানা দুর্ভোগ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ২১২ সময় দেখুন

ক্যম্পাস প্রতিনিধি-বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪ জুলাই ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি ) আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় শিক্ষার্থীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দুটি হল ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে বসবাসরত ছাত্ররা বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পানীয় জলের অভাব, অপরিষ্কার পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা এবং বিজয় – ২৪ হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা দিনের পর দিন একই ধরনের সমস্যায় জর্জরিত।  শেরে বাংলা  হলের আবাসিক ছাত্র তানভীর আহমেদ জানান, “আমাদের হলে প্রায় প্রতিদিনই কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে হাঁসফাঁস করতে হয়, রাতে পড়াশোনা করা যায় না। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।”

 

একই অভিযোগ করেন বিজয় হলের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “শুধু বিদ্যুৎ নয়, আমাদের এখানে বিশুদ্ধ পানীয় জলেরও অভাব রয়েছে। ফিল্টার থাকলেও তা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বোতলজাত জল কিনে খেতে হয়।”

 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও হল দুটির চিত্র হতাশাজনক। আঙ্গীনাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। আবর্জনার স্তূপ প্রায়শই হলের আশেপাশে দেখা যায়, যা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

 

শেরে  বাংলা হলের আরেক আবাসিক ছাত্র ফাহিম বলেন, “বাথরুমের অবস্থা খুবই খারাপ। দুর্গন্ধে টেকা দায়। মশা-মাছির উপদ্রব তো লেগেই থাকে।”

অন্যদিকে, হলের নিরাপত্তা নিয়েও ছাত্ররা শঙ্কিত। বিজয় – ২৪ হলের শিক্ষার্থী সজল জানান, “রাতে  অনেক দীর্ঘ সময় নিয়ে কারেন্টে থাকে না ফলে  কারা আসে যায়, আমরা কিছুই জানি না। কয়েক মাস আগে আমাদের হলের এক ছাত্রের ল্যাপটপ চুরি হয়ে গিয়েছিল।

 

এইসব সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তারা মনে করেন, আবাসিক হলগুলোর দিকে নজর দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি।

 

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর