বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে চায় একটি উৎসবমুখর পরিবেশে : ড. আবদুল মঈন খান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫
  • ২১৪ সময় দেখুন

ঢাকা, ১৬ জুন ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষকে যদি কেউ বলে যে, তুমি কি পোলাও কোরমা চাও, নাকি তুমি ভোট দিতে চাও? তখন বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু বলবে যে, আমি ভোট দিতে চাই। না খেয়ে থাকলেও অসুবিধা নেই। এটা (ভোট) বাংলাদেশের মানুষের রক্তে মিশে আছে। তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে।

 

এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। বিএনপি প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটি ও চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষ সহযোগী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ।

 

বৈঠকের পর ড. আবদুল মঈন খান বলেন, সারাহ কুকের সঙ্গে দেশের চলমান অবস্থা, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাসহ সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামীতে বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চায় তা নিয়ে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন।

 

নির্বাচন নিয়ে কী কথা হয়েছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের যে ইচ্ছার প্রতিফলন তারা (বিদেশিরা) দেখতে চায়। নতুন প্রজন্ম, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি, বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ তারা ভোট দিতে চায়। তো কাজেই ভোটের ব্যাপারে যখন সরকারের পক্ষ থেকে একটি নিশ্চিত ইঙ্গিত আসে, যখন বলা হয় যে নির্বাচন কমিশন তাদের দেশবাসীকে জানাবে ভোটের তারিখ, তখন তো বাংলাদেশের মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়ে যায়। আমি খোলাখুলি বলছি, আমি তো আমার গ্রামে ছিলাম, আমি দেখেছি মানুষের উচ্ছ্বাস। আমার মনে হয়, সারা বাংলাদেশেই সেটাই ছিল। বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে চায় একটি উৎসবমুখর পরিবেশে।

 

এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেকটা নববর্ষের (১৪ এপ্রিল) উৎসবের মতো। বাংলাদেশের মানুষের কাছে কিন্তু ভোটের দিনটিও একটি উৎসব। কাজেই তারা উন্মুখ হয়ে আছে কখন ভোট দেবে, কখন তাদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করবে, সত্যিকার অর্থে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে। এটাই আলোচনার বিষয় ছিল।

 

আলোচনা করেছি যে ভবিষ্যতে যখন বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুরোপুরি ফিরে আসবে, তখন এ দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হবে—যা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে—তখন বিলেতের সঙ্গে আমরা ভবিষ্যতে কোন কোন বিষয়ে ও কার্যক্রম উন্নত ও জোরদার করতে পারি, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আপনাদের কোনো দাবি থাকবে কিনা? জানতে চাইলে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, এগুলো কিন্তু দাবির বিষয় নয়। আসলে আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যে, বাংলাদেশের একটা প্যারাডাইম—দাবি করবে, দাবি মেটাবে। আমার মনে হয়, এই চক্র থেকে বাংলাদেশকে বের হয়ে আসতে হবে।

 

দাবি-দাওয়ার বদলে একটা রিকনসিলিয়েটরি এপ্রোচ, যেটাকে বলা হয় পারস্পরিক সমঝোতার মনোভাব। আমার মনে হয়, সেখানে ফিরে যেতে হবে। আর এই যে সারাক্ষণ কনফ্লিক্ট—এর বিরুদ্ধে, ওর বিরুদ্ধে! এটা একটা পরিবেশ, এখান থেকে, এই চক্র থেকে বাংলাদেশকে বের হয়ে আসতে হবে।

 

১৩ জুন একটি মিটিং হয়েছে। এটা অবাক করা বিষয়, আমি ড. ইউনূস সাহেবের সঙ্গে দেখা করে বলেছি—আপনি শুধু নির্বাচনের দিনটি ঘোষণা দিন, দেখবেন বাংলাদেশের সব সমস্যা একদিনে দূর হয়ে যাবে। ১৩ জুনের পর থেকে বাংলাদেশের একটা গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এটা কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই। যে যাই বলুক না কেন, মানুষ এখন উৎসাহী, সামনে তাকাচ্ছে। মানুষ চিন্তা করছে দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে। এই গণতন্ত্রের জন্যই তো বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছিল।

 

আমাদের গণতন্ত্র প্রয়োজন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার এ দেশে প্রয়োগ করতে পারে।

 

আপনারাই তো বলছেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক বেশি শক্তিশালী। তার ক্ষমতা কমাতে হবে। এর মূলেই রয়েছে জবাবদিহিতা। জবাবদিহিতা না থাকলেই প্রধানমন্ত্রী অতি শক্তিশালী হয়ে যান, তখন যা খুশি তাই করেন। যদি সত্যিকার অর্থে জবাবদিহিতা থাকত, তাহলে তো প্রধানমন্ত্রী এভাবে থাকতেন না।

 

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিয়ে মঈন খান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতার উদ্ভব কিন্তু গাজা উপত্যকা থেকেই। কাজেই এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে যে সার্বিক বিশ্বে যে অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে, এটা তো কোনো সুস্থ পরিবেশ নয়। ইরান এবং ইসরায়েলের সর্বশেষ যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে—আমাদের একটাই কথা, আমরা শান্তিময় একটি বিশ্ব দেখতে চাই।

 

এখানে দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। লাভবান হয় কারা? যারা সমরাস্ত্র বানায়, ড্রোন বানায়, সেই ব্যবসায়ী কমিউনিটি। তারা চায় যুদ্ধ হোক, অস্ত্র বিক্রি হোক। কিন্তু ক্ষতিটা হয় নিরীহ মানুষের।

 

কাজেই এই যে দ্বন্দ্ব, এই যে একটা পরিস্থিতি—এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং আমরা একটি শান্তিময় বিশ্ব দেখতে চাই।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর