রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন

পটুয়াখালির দুমকীতে ছড়িয়ে পড়ছে লাম্পি স্কিন : আতঙ্কে খামারিরা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫
  • ২২৯ সময় দেখুন

মোঃ মিজানুর রহমান, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-পটুয়াখালী, ২৬ মে ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): অল্প কিছুদিন পরই কোরবানির ঈদ। এরই মধ্যে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে গরুর লাম্পি স্কিন রোগ। এতে আতঙ্কে খামারিরা।উপজেলা প্রানি সম্পদ কার্যালয় তথ্যমতে, এপর্যন্ত ৩৮১ টি গরু আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১১ টি।

 

এ রোগে মৃত্যুহার কম হলেও ঝুঁকি বাড়ছে দুগ্ধ, চামড়া ও মাংস শিল্পে। এ রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। আক্রান্ত গাভির দুধ উৎপাদন শূন্যের কোটায় নেমে আসে। দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা। কোরবানির ঈদের আগে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় খামারিদের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। তবে এ রোগ ছড়িয়ে পড়লেও আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

 

এ রোগের প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) সরকারি পর্যায়ে সরবরাহ না থাকায় গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিরা। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এর টীকা পাওয়া যাবে এমন আশার বানী শুনিয়েছেন  উপজেলা ভেটেরেনারি সার্জন ডাঃ আশিক হাজরা।

উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের  চরবয়েরা গ্রামের  আঃ জলিল  জানান, তিনি চার পাঁচটি গরু লালন পালন করছেন। শাহী ওয়াল জাতের একটি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্তান্ত হয়েছে। চামড়ার অধিকাংশ জায়গায়ই পচন ধরেছে। অবশেষে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন চিকিৎসা করাতে।  চারদিকে যেভাবে রোগ ছড়াচ্ছে তাতে প্রতিটি দিন আতঙ্কে কাটাচ্ছেন।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের রুপাশিয়া গ্রামের এখলাছ ও আঃ মোতালেব জানান, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে দুটি বাছুর মারা গিয়েছে।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দুমকী গ্রামের  সঞ্জীব দাস জানান, লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুটি চিকিৎসা করিয়েও কোন লাভ হয়নি।  গরুটি মারা গিয়েছে।

 

খামারি সহিদুল ইসলামের ভাষ্য, এ রোগে আক্রান্ত হলে তাঁর ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসায় ধস নামবে। এতে ভীষণভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন তিনি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত মশা ও মাছির মাধ্যমে ভাইরাসজনিত চর্মরোগটি সারা দেশে ছড়াচ্ছে। উপজেলার লেবুখালী, আঙ্গারিয়া, পাঙ্গাসিয়া, মুরাদিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের গরু কম বেশি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ আশিক হাজরা  বলেন, গরুর লাম্পি স্কিন রোগের (এলএসডি) সুনির্দিষ্ট  ভ্যাকসিন সরকারিভাবে সরবরাহ নেই।  বেসরকারি পর্যায়ে কিছু কিছু কোম্পানি  ঔষধ বাজারজাত করছেন।শুধু সচেতনতার মাধ্যমেই এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। রোগের লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হয়। প্রাথমিকভাবে অ্যান্টিপাইরেটিক ও অ্যান্টিহিস্টামিন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। নডিউল বা গুটি ফেটে গেলে বা সেকেন্ডারি ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন দমন করার জন্য ক্ষত স্থানে পভিসেপ অথবা ভায়োডিন দিয়ে ড্রেসিং করে বোরিক পাউডার বা সালফানিলামাইড পাউডার লাগানো যেতে পারে। অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।

 

তিনি জানান, এই রোগ প্রতিরোধে অসুস্থ পশু আলাদা করতে হবে। খামারের ভেতরের এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে মশা-মাছির উপদ্রব কমিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আক্রান্ত গরুকে খামারের শেড থেকে আলাদা করে অন্য স্থানে মশারি দিয়ে ঢেকে রাখলে অন্য গরুতে সংক্রমণ হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুরকে খেতে না দিয়ে মাটি চাপা দেওয়া উচিত। আক্রান্ত গরুর ব্যবহার্য কোনো জিনিস সুস্থ গরুর কাছে আনা বা সেই গরুর খাবার অন্য গরুকে খেতে দেওয়া যাবে না।

 

এই প্রাণিস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজের চিকিৎসায় গোট পক্সের ভ্যাকসিন প্রাথমিকভাবে কাজে লাগতে পারে। তবে এ ভ্যাকসিনেরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে । ২৫- ৩০ দিন পর সাধারণত এমনিতেই রোগটি সেরে যায়। তাই লাম্পি স্কিন রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলেই দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা রেজিস্টার্ড প্রাণী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর