শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

বন্ধ হচ্ছে ‘কফি উইথ করণ’: বিতর্কিত ১০ পর্বের স্মৃতি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৫ সময় দেখুন

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা অন্দরমহল উন্মোচন করা জনপ্রিয় সেলিব্রিটি চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’ শেষ হচ্ছে। অনুষ্ঠানটির নির্মাতা ও সঞ্চালক করণ জোহর ঘোষণা করেছেন, ২২ বছর পর নবম মৌসুমের মাধ্যমেই ইতি টানা হচ্ছে এই শোর। ১৪ অক্টোবর জিওহটস্টারে শুরু হওয়া এই শেষ অধ্যায়ের মাধ্যমেই দীর্ঘ এই যাত্রার সমাপ্তি ঘটবে। ২০০৪ সালে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি আটটি মৌসুমে মোট ১৬১টি পর্ব প্রচার করেছে। দীর্ঘ এ সময়ে ভারতীয় বিনোদনজগতের তারকারা বসেছেন করণের সেই বিখ্যাত ‘কফি কাউচে’। জেনে নেওয়া যাক, অনুষ্ঠানটি এমন ১০ বিতর্কের কথা। ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছিল, তারকাদের নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডাও কীভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণের রূপ নিতে পারে। সৌন্দর্য ও বাহ্যিক রূপ নিয়ে এমন মন্তব্যকে অনেকে অপমানজনক বলে মনে করেছিলেন।

কফি কাউচের এই দীর্ঘ পথচলায় তারকাদের প্রেমের গল্প থেকে বিচ্ছেদের ঘোষণা, এমনকি বিতর্কিত মন্তব্য—সবই দর্শকদের নজর কেড়েছে। তবে এই শো ঘিরে তৈরি হয়েছে অনেক বড় বড় বিতর্ক। ২০০৬ সালের তৃতীয় মৌসুমে দীপিকা পাড়ুকোন ও সোনম কাপুর যখন অতিথি হয়ে এসেছিলেন, তখন তাঁদের কথার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল রণবীর কাপুর। সোনম বলেছিলেন রণবীরের একজন স্টাইলিস্টের প্রয়োজন এবং তিনি প্রেমিক হিসেবে ভালো নন। ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেসময় বেশ সমালোচনা হয়েছিল। তাঁদের কেউ বলেছেন প্রেমের কথা, কেউ জানিয়েছেন সম্পর্ক ভাঙার গল্প, কেউ প্রকাশ করেছেন বন্ধুত্বের অন্দরমহলের খবর। আবার কখনো অতিথির একটি মন্তব্যই পরদিন হয়ে উঠেছে বড় সংবাদ। রণবীরকে নিয়ে দীপিকা-সোনমের খোঁচা অনুষ্ঠানটির সবচেয়ে স্মরণীয় বিতর্কগুলোর একটি ২০১০ সালের তৃতীয় মৌসুমে। দুজনের কথার কেন্দ্রে চলে আসেন দীপিকার সাবেক প্রেমিক রণবীর কাপুর। দীপিকার অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে কথাবার্তা আরও জমিয়ে তোলেন তাঁরা। রণবীরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে আলোচনা করায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও নাখোশ হয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। করণ প্রথমে অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেও পরে কঙ্গনার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এরপর স্বজনপ্রীতি নিয়ে দুজনের বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়। একই বছর আন্তর্জাতিক ভারতীয় চলচ্চিত্র একাডেমি পুরস্কারের মঞ্চে করণ, সাইফ ও বরুণ ধাওয়ান স্বজনপ্রীতি নিয়ে ঠাট্টা করায় নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনাকে শুধু একটি টেলিভিশন বিতর্ক বললে কম বলা হয়। বিশেষ করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ও নাইট ক্লাবে তাঁদের আচরণ নিয়ে হার্দিকের বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা হয়। প্রতিক্রিয়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দীর্ঘদিন তাঁকে নিয়ে চলেছে বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ঠাট্টা। ইমরানও পরে মন্তব্যটির জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, মুহূর্তের উত্তেজনায় কথাটি বলে ফেলেছিলেন।

২০১৭ সালে কঙ্গনা রনৌত এই শোর সেটে করণ জোহরকে সরাসরি ‘স্বজনপ্রীতির পতাকাবাহক’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, করণ বহিরাগতদের চেয়ে তারকা সন্তানদের বেশি সুযোগ দেন। এই বিতর্ক পরে বলিউডে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেয়। এর বাইরে ২০১৯ সালে ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুলকে ঘিরে তৈরি হয় বড় বিতর্ক। অনুষ্ঠানে নারীদের নিয়ে তাদের অসম্মানজনক মন্তব্য ও বর্ণবাদী ইঙ্গিত থাকায় বিসিসিআই তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে এবং শোর পর্বটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। বলিউডে কারা সুযোগ পান, তারকা সন্তানদের সুবিধা কতটা, আর বহিরাগতদের সংগ্রাম কেমন—এসব প্রশ্নকে মূলধারার আলোচনায় আনতে কঙ্গনার বক্তব্য বড় ভূমিকা রেখেছিল। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসক কমিটি দুজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনে।

সাধারণ জ্ঞান নিয়ে বিপাকে পড়ার নজিরও রয়েছে এই শোতে। ২০১৩ সালে আলিয়া ভাট ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির নাম ভুল করে পৃথ্বীরাজ চৌহান বলেছিলেন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভুলের জন্য তাকে দীর্ঘ সময় ট্রল করা হয়েছিল। তবে আলিয়া পরে নিজেই বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস করেছেন। একইভাবে ২০১৪ সালে ইমরান হাশমি ঐশ্বরিয়া রাইকে ‘প্লাস্টিক’ বলেছিলেন, যা পরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারেননি আলিয়া, তৈরি হলো অসংখ্য মিম ২০১৩ সালে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ সিনেমার সহশিল্পী বরুণ ধাওয়ান ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন আলিয়া ভাট। তবে আলিয়া বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে পরে নিজের ভুল নিয়ে নিজেই হাস্যরস করেন। ‘জিনিয়াস অব দ্য ইয়ার’ নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতেও অংশ নেন। ঐশ্বরিয়াকে ‘প্লাস্টিক’ বলেছিলেন ইমরান হাশমি ২০১৪ সালে ‘কফি উইথ করণ’-এর দ্রুত প্রশ্নোত্তরপর্বে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম শুনে ইমরান হাশমি এক শব্দে উত্তর দিয়েছিলেন—‘প্লাস্টিক’।

কারিনা কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মধ্যকার দ্বৈরথও ছিল এই শোর অন্যতম আলোচ্য বিষয়। কারিনা প্রিয়াঙ্কার অ্যাকসেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুললে পরে প্রিয়াঙ্কাও পাল্টা জবাব দেন। এছাড়া রণবীর সিংয়ের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য নিয়ে আনুশকা শর্মা অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। সালমান খান ২০১৩ সালে চতুর্থ মৌসুমের প্রথম পর্বে নিজেকে ‘ভার্জিন’ দাবি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন, যা নিয়ে এখনো মিম তৈরি হয়। তুষার কাপুরের প্রীতি জিনতাকে নিয়ে বোটক্স মন্তব্যও সেসময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির তৈরি করেছিল। জানতে চান, প্রিয়াঙ্কা ওই ধরনের অ্যাকসেন্ট কোথা থেকে পেয়েছেন।

২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর করণ জোহর অনুষ্ঠানটি বন্ধের ঘোষণা দেন। বিদায়ী নবম মৌসুমের প্রথম অতিথি ছিলেন সালমান খান। ধারণা করা হচ্ছে, এই শেষ পর্বে শাহরুখ খান, কারিনা কাপুর, সাইফ আলী খান, কিয়ারা আদভানি, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, রাশমিকা মান্দানা এবং বিজয় দেবরাকোন্ডাসহ হিন্দি ও দক্ষিণি সিনেমার বড় বড় তারকাদের দেখা মিলবে। দীর্ঘ ২২ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কফি উইথ করণ’-এর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে এই নতুন মৌসুমের মাধ্যমে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর