রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন

আল্লাহর অবাধ্যতায় অন্তরে যে পরিবর্তনগুলো ঘটে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

অসতর্কতা ও আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে মানুষের অন্তর কঠোর হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেল—তা পাষাণ কিংবা তার চেয়েও বেশি কঠিন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৭৪)। মানুষের অন্তরের এই কাঠিন্য চেনার চারটি প্রধান লক্ষণ নিচে আলোচনা করা হলো

  1. ইবাদতে অনাগ্রহ ও অলসতাঅন্তর কঠিন হয়ে পড়লে ইবাদতের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। নামাজ আদায়ে অলসতা চলে আসে এবং ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর ভয় বা ভীতি অন্তরে অনুপস্থিত থাকে। মুনাফিকদের স্বভাব সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা সালাতে আসে অলসতার সঙ্গে আর ব্যয় করে সংকুচিত মনে।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ৫৪)।
  2. উপদেশ ও কোরআনের আয়াতের প্রভাবহীনতাকঠোর অন্তর কোরআনের বাণী বা ধর্মীয় উপদেশ শুনে প্রভাবিত হয় না। বিশেষ করে শাস্তির কথা শুনলেও তাদের অন্তরে ভয়ের সৃষ্টি হয় না; বরং কোরআন পাঠ করা তাদের কাছে বোঝা বলে মনে হয়। এর বিপরীতে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হলো, যখন তাদের সামনে আল্লাহর নাম নেওয়া হয় বা আয়াত পাঠ করা হয়, তখন তাদের অন্তরের ভয় বেড়ে যায় এবং ঈমান শক্তিশালী হয়। (সুরা আনফাল, আয়াত: ২)।
  3. আজাব বা বিপদ দেখেও শিক্ষা না নেওয়ামানুষ সাধারণত বিপর্যয় বা প্রিয়জনের মৃত্যু দেখলে বিচলিত হয় ও সতর্ক হয়। কিন্তু অন্তর কঠিন হয়ে গেলে মানুষ এসব দৃশ্য দেখেও ভীত হয় না, ভালো আমলের দিকে ঝুঁকে না এবং পাপ বর্জন করে না। আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি লক্ষ্য করে না, প্রতিবছর তারা দু-একবার বিপর্যস্ত হচ্ছে, অথচ তারা এর পরও তাওবা করে না কিংবা উপদেশ গ্রহণ করে না।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ১২৬)।
  4. দ্বীনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাবযার অন্তর নরম ও পবিত্র, তার মধ্যে আল্লাহ, রাসুল ও দ্বীনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থাকে। এই শ্রদ্ধা ইবাদতকে সহজ করে তোলে। কিন্তু যার অন্তর কঠোর, তার হৃদয় থেকে দ্বীনের প্রতি এই শ্রদ্ধাবোধ ধীরে ধীরে কমে যায়, যা তাকে ইবাদত থেকে আরও দূরে ঠেলে দেয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর