রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

ফিলিস্তিনি মুক্তি না আসা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে যে ম্যাচ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৪ সময় দেখুন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১০ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট):  ফুটবল মাঠে প্রতিবাদের এক অনন্য নজির স্থাপন করল ফিলিস্তিন ও তুর্কি ক্লাব কনিয়াস্পোর। আন্তর্জাতিক বিরতির সময় আয়োজিত এই প্রীতি ম্যাচটি কেবল খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে বিশ্ববিবেকের প্রতি এক জোরালো আহ্বান। খেলার ৮৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজান, তখন সেটি কেবল একটি ম্যাচের সমাপ্তি ছিল না, ছিল প্রতীকী প্রতিবাদ। মাঠের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে বার্তা, ‘এই ম্যাচ তত দিন পর্যন্ত স্থগিত, যত দিন না ফিলিস্তিনি মুক্ত হচ্ছে’। রেফারি বাজিয়ে দিলেন নিজের লম্বা বাঁশি। ম্যাচ থেমে গেল নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে। যুদ্ধবিগ্রহের মধ্যেও যাঁরা ফুটবলের জয়গান গেয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে, যুদ্ধ অবসানের পথ খুঁজছেন ফুটবল পায়ে, এই বিরতিতে তাঁদের নিজেদের মাঠে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তুর্কি ক্লাব কনিয়াস্পোর।

ম্যাচটি সাধারণ কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না, বরং গাজায় চলমান পরিস্থিতির ভয়াবহতার দিকে বিশ্বের নজর ফেরানোর এক প্রচেষ্টা ছিল। খেলার শুরুতে তুর্কি সমর্থকদের আনা বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাচ্চারা যখন ঘুমায়, তখন চুপ থাকো। যখন মারা যাচ্ছে তখন নয়।’ ম্যাচের ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে প্রথমবারের মতো খেলা এক মিনিটের জন্য থামিয়ে দেওয়া হয়। ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারানো ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ বিরতি নেওয়া হয়। তাঁদের সম্মানার্থেই ১০: ১৪ মিনিটে এক মিনিটের জন্য বন্ধ থাকে ম্যাচ।

খেলা চলাকালীন ২-২ গোলের সমতায় ছিল দুই দল। কনিয়াস্পোর যখন শেষ মুহূর্তে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ সাজাচ্ছিল, ঠিক তখনই এক সেকেন্ড বাকি থাকতেই রেফারি ম্যাচ স্থগিতের বাঁশি বাজান। বিশ্বজুড়ে খেলাধুলার মাধ্যমে এই প্রতিবাদের ধারা নতুন নয়; অতীতে আফকনেও ৮৫ মিনিটে ম্যাচ শেষ করার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের এই প্রতিবাদটি ছিল ফিলিস্তিনের মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি মাধ্যম। এমন ঘটনা নতুন নয়, আফকনে ৮৫ মিনিটেও ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজানোর ঘটনা আছে। ২-২ গোলের ম্যাচটাকে সাধারণ একটা ম্যাচ ভাবলে ভুল হবে।

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির এই ধারা অন্য ম্যাচেও লক্ষ্য করা গেছে। আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের ম্যাচেও ফিলিস্তিনের সমর্থনের বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো ব্যান্ড পরে মাঠে নামেন এবং ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করা থেকে বিরত থাকেন। পুরো ম্যাচে গ্যালারি থেকে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ধ্বনিত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে ম্যাচটি জিতে নেয় আয়ারল্যান্ড।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর