আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ছাত্রকে প্রহারের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, দুপুর ১২ টায় মাদারগঞ্জ দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। হাইকোর্টের আদেশ দেখিযে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক একরামুল ইসলাম প্রধান। ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকাবাসী হতবাক, যে কোন মূহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। বিদ্যালয় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ মাদারগঞ্জ দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়টি এখন দখলের রাজত্ব কায়েম করেছে একটি পক্ষ। জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক শাহ্ মো. তাজুল ইসলাম শামীম গত ০৬/০৩/২০১১ ইং তারিখ থেকে সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবসরের খুব কাছাকাছি এসেও মিলছে কোন সুশৃঙ্খল পরিবেশ। তথ্যানূসারে মাত্র চার মাস পরই প্রধান শিক্ষক শাহ তাজুল ইসলাম শামীম অবসরে যাবেন বলে জানা গেছে। শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলির কারণে শিক্ষার বিরাজমান সুষ্ঠু পরিবেশ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আমরা কোন স্বার্থের রাজনীতি ও দলাদলি চাই না, আমরা চাই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। অভিভাবকরাও চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিশ্চয়তার সমাধান চান বলে জানা যায়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন বিএনপি’র আহবায়ক ও মাদারগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রায়হান কবীর প্রধান ও ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের মধ্যে তর্কাতর্কীর এক পর্যায়ে তুমুল ঝগড়া ও হাতাহাতি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ওই সময় দাপ্তরিক কাজে পীরগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান করছিলেন প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম শামীম। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির সুযোগে মেহেদী হাসান দলবল ও লাঠি-সোটা নিয়ে একরামুল ইসলাম প্রধানকে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসিয়ে দেন। চেয়ারে বসা অবস্থায় এ প্রতিবেদক ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ওই সময়ে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। ওই দিন বিদ্যালয়ের সকল অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন সহঃ প্রধান শিক্ষক একরামুল ইসলাম প্রধান।
২৪ সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটায় গিয়ে দেখা গেছে, সম্পূর্ণ বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, বিদ্যালয়ে কোন ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি নেই।বিদ্যমান সংঘর্ষের আশংকায় অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভরসা পাচ্ছেন না বলে এলাকাবাসী জানান। মাঠের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী না থাকলেও গরু-ছাগল চরে বেড়াচ্ছে। ছবিটিই বাস্তবতার স্বাক্ষী। প্রধান শিক্ষক শাহ্ মো. তাজুল ইসলাম শামীম জানান, ” সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসে সরেজমিনে বাস্তব চিত্র দেখেছেন, তিনি কোন সংঘর্ষে না জড়ানোর পরামর্শ দিলে আমরা কেউ বিদ্যালয়ে যাইনি। এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান এর কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।তিনি জানান,” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পরামর্শক্রমে প্রসাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল বাকীউল বারীকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পীরগঞ্জ নজমুল হক মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, “আমাদের সোর্স সবসময় মাদারগঞ্জে অবস্থান করছেন, সংঘর্ষের আশংকায় উভয়পক্ষকে বিদ্যালয়ে না আসার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আমরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতি রাখার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
Leave a Reply