চট্টগ্রাম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৬৮ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে আরও দুটি বড় জাহাজ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাহাজ দুটি বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় এবং পরে জাহাজগুলো থেকে তেল খালাসের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বর্তমানে বন্দর বহির্নোঙর ও ডলফিন অয়েল জেটিতে অবস্থান করছে তিনটি বিদেশি জাহাজ, যেখান থেকে পর্যায়ক্রমে ডিজেল ও জেট এ-১ (বিমান জ্বালানি) খালাস করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানির মজুত স্বাভাবিক রাখতে এই কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ১১ হাজার টন ‘জেট এ-১’ জ্বালানি নিয়ে আসা জাহাজ ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ গত ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে ডলফিন অয়েল জেটি-৬-এ (ডিওজে-৬) নোঙর করে খালাস কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই জ্বালানি দেশের বিমান পরিচালনার চাহিদা মেটাতে সরবরাহ করা হবে।
প্রায় ৩৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী জাহাজ ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ গত ১৪ এপ্রিল রাত ১১টায় বহির্নোঙরে পৌঁছায়। বর্তমানে লাইটারেজ পদ্ধতিতে জ্বালানি খালাস চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, জোয়ারের সময় আজ (১৫ এপ্রিল) দুপুরে জাহাজটিকে ৫ নম্বর ডলফিন অয়েল জেটিতে (ডিওজে-৫) স্থানান্তর করা হবে।
এদিকে, ৩২ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘এমটি টর্ম দামিনি’ নামক অপর একটি জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে খালাস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জাহাজটিকে আগামীকাল ডলফিন অয়েল জেটি-৬-এ (ডিওজে-৬) আনা হবে বলে জানা গেছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর বিষয়টি জোয়ার-ভাটার সময়সূচির ওপর নির্ভরশীল। বন্দর কর্তৃপক্ষের দক্ষ পাইলটদের তত্ত্বাবধানে এবং শক্তিশালী টাগবোটের সহায়তায় কর্ণফুলী চ্যানেলের মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আমদানি, খালাস এবং পরিবহন প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সমন্বিত এই উদ্যোগের ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে এবং দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।
Leave a Reply