টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ ও অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে আজ রোববার সকাল থেকে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। ছুটি কাটিয়ে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ কারখানায় যোগ দিয়েছেন এবং যে কারখানাগুলো এতদিন বন্ধ ছিল, সেগুলোও পুনরায় চালু হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, কারখানাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, কারখানার চারপাশ এবং মহাসড়কে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের টহল ও অবস্থান নিতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৩ প্লাটুন বিজিবি এবং ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে নতুন করে অস্থিরতা ঠেকাতে শিল্পাঞ্চলজুড়ে সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকালে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবে কারখানায় ঢুকছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসাইন জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকেরা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং বর্তমানে সব কারখানা খোলা রয়েছে। অন্যদিকে, কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানিয়েছেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মস্থলে ফেরার ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। শ্রমিকেরা কাজে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
কর্মস্থলে ফেরা শ্রমিকদের একটি বড় অংশের দাবি, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে তাঁরা বেতন বাড়ানোর দাবির সঙ্গে একমত। তবে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে, কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন, ভাঙচুর বা অস্থিরতা তাঁরা সমর্থন করেন না। নিজেদের ন্যায্য দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁরা নিয়মিত কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী। বিক্ষোভের কারণে বন্ধ থাকা কারখানাগুলোও খুলেছে।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হয়। বেশ কয়েক দফায় মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।