আমেরিকার ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী মমতা কাফলে ভাটকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত নরেশ ভাট আদালতে নিজের জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। ২৮ বছর বয়সি স্ত্রীকে হত্যা, লাশ বিকৃত করা ও গুম করার অভিযোগে নরেশ ভাটকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিচারকাজে নরেশ দাবি করেন, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছিলেন এবং বিছানার পাশে বমি ও ওষুধের বোতলসহ তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর তিনি আর তাকে বাঁচাতে পারেননি। ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই রাতে তিনি তাদের ছোট সন্তানকে নিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলেন এবং এরপর কখন স্ত্রী ওপরে এসেছিলেন তা তিনি জানতেন না। নরেশের দাবি, প্রচুর পরিমাণে ট্যাবলেট এবং অত্যন্ত বিষাক্ত কীটনাশক খেয়ে মমতা আত্মহত্যা করেছেন। ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই একটি ভিডিও কলে শেষবার দেখা গিয়েছিল মমতাকে। আমি পুরোপুরি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।’।
নরেশ আদালতকে জানান, তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মমতাকে বাঁচানোর জন্য কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেন তিনি ঘটনার পর জরুরি সেবা ‘৯১১’-এ ফোন করেননি—এমন প্রশ্নের জবাবে নরেশ জানান, প্রচণ্ড ভয়ে এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এরপরই তিনি লাশ গুম করার মতো ভয়াবহ পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকে পড়েন। চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। প্রথমে পটোকম নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার চিন্তা করলেও পরে ‘হোম ডিপো’র দোকান থেকে লাশ গুম করার সরঞ্জাম কিনতে যান তিনি। কেন থামলেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে নরেশ বলেন, ‘মানসিক ও শারীরিকভাবে আমি একদম শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ইলেকট্রিক করাত ব্যবহার করে লাশের অবশিষ্টাংশ বিভিন্ন ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলেন নরেশ। তিনি স্বীকার করেন, হত্যার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনকি আত্মহত্যার জন্য গলায় তার পেঁচিয়ে প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানসিক ও শারীরিক শক্তির অভাবে সেই পথ থেকে সরে আসেন। তবে শেষ রক্ষা না হওয়ায় করাত দিয়ে লাশ কাটতে বাধ্য হন।
মামলাটি প্রকাশ্যে আসে যখন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মমতা তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। পরবর্তীতে ২২ আগস্ট পুলিশ দম্পতির শোবার ঘর ও বাথরুমে রক্তের দাগ খুঁজে পায় এবং চুল লেগে থাকা একটি ইলেকট্রিক করাত উদ্ধার করে। এরই ধারাবাহিকতায় নরেশকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের শুরু থেকেই নরেশ প্রথমে স্ত্রীকে নিখোঁজ দাবি করলেও পরবর্তীতে নিজেই নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। তবে তিনি মারা গেছেন নিশ্চিত হওয়ার পর লাশটি টেনে বাথরুমে নিয়ে যান।
দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মমতার কোনো হদিস মেলেনি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আইনজীবীদের ধারণা, আদালতের সামনে এমন স্বীকারোক্তি দিয়ে তিনি মূলত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কঠোর শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার কৌশল গ্রহণ করছেন। পুরো ঘটনাটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।