মুনসুর আলী-ভ্রাম্যামান প্রতিনিধি, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ঢাকার আশুলিয়ার পোশাকশিল্প এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। শিল্প পুলিশ-১-এর আওতাধীন ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৭০টি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার জামগড়া এলাকার কয়েকটি কারখানায় ছুটির পর কিছু ব্যক্তি ঢিল ও পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালান এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এর কিছুক্ষণ আগে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক জিরাবো থেকে এনভয় কারখানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছেন। গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা জানতে চাইলে এসপি বলেন, এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। তবে শিল্প পুলিশের হেফাজতে বর্তমানে কেউ আটক নেই। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির পাঁচ প্লাটুন সদস্য এপিসহ (সাঁজোয়া যান) মোতায়েন রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকেরা কাজ করতে চান। কিন্তু বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী ও বহিরাগত ব্যক্তি তাদের উসকানি দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচার চালিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে। আগামী জানুয়ারির শুরু থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের ঘোষণা রয়েছে। মালিকপক্ষও নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তারা কাজে ফিরলে শিল্পাঞ্চলে আবারও স্বাভাবিক ও কর্মচঞ্চল পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্দোলনে উসকানিদাতাদের শনাক্তের বিষয়ে শিল্প পুলিশ সুপার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দিচ্ছেন, এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়ার দাবি, শ্রমিকদের সামনে রেখে পেছন থেকে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন। এসব ব্যক্তির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই। তবে তারা শ্রমিক নন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ব্যক্তির তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করে তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।