আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন আজ চরম দূর্দশায় পতিত হয়ে ধুকে ধুকে চলছে সকল কার্যক্রম। জানা গেছে ৯ নং পীরগঞ্জ সদর ইউনিয়নটি এক সময় উপজেলার টপ অব দ্যা ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৩ সালে সদর ইউনিয়ন ভেঙ্গে পৌরসভা গঠিত হলে মাত্র ঊনিশটি মৌজা নিয়ে আলাদা হয়ে যায় ইউনিয়নটি। আয়ের বিভিন্ন উৎস কমে গিয়ে দিনে দিনে দূর্বল হয়ে পড়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকান্ড। উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নের সবকটিতে বিভিন্ন আয়ের উৎস থাকলেও শুধুমাত্র পীরগঞ্জ সদর ইউনিয়নে নেই কোন আয়ের উৎস। ফলে দিনে দিনে ইউনিয়নটি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। বাড়তি কোন আয়ের যোগান না থাকায় দূর্দশা বাড়ছে পরিষদের সকল সদস্য-সদস্যাদের।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার অধ্যদেশ অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ নির্দ্ধারিত ১০০০০ টাকা সম্মানীর সরকারি ভাতা পান ৪৪০০ টাকা, বাকী ৫৬০০ টাকা ইউনিয়ন পরিষদের আয় থেকে মেটানো হয়ে থাকে। সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা ও ওয়ার্ড সদস্যগণের নির্দ্ধারিত সস্মানী ৮০০০ টাকা।সম্মানীর সরকারি ভাতা ৩৬০০ টাকা, বাকী ৪৪০০ টাকা ইউপি ফান্ড থেকে মেটানোর কথা থাকলেও পরিষদমন্ডলীর কেউই ইউনিয়ন পরিষদের ওই অংশের টাকা পাচ্ছেন না প্রায় আট বছর যাবৎ। জানা গেছে, বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বিগত ২৪ শে সেপ্টেম্বর/ ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে। চলতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মো. নুরুল ইসলাম ( ময়না মাস্টার ) আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করেন। ২০২৪ জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারালে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার হোসেন মনু গত ১৯/০৬/২০২৫ ইং থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন মনু জানালেন, “বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের দূর্দশার কথা। ইউনিয়নে নেই কোন হাট-বাজার, যেখান থেকে আয়ের সংস্থান হবে। পীরগঞ্জের সব ইউনিয়নেই হাট-বাজার থাকলেও সদর ইউনিয়নে সে ব্যবস্থা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের ১,২,৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। একটুখানি বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলি চলাচলে অনুপযৃূক্ত হয়ে পড়ে। ১০০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি বন্ধ থাকায় ওই সকল রাস্তাগুলি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।”
১ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম জানান, “বর্তমানে উন্নয়ন বরাদ্দ নেই বললেই চলে। ইউনিয়নের স্ট্রীট লাইটগুলি প্রায় নস্ট হয়েছে, সেগুলি সংস্কার ও মেরামত না করায় রাস্তাঘাটে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে।” ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মো. সুমন মিয়া জানান, “কর্মসৃজন কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় কাঁচা রাস্তাগুলি এখন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।” সংরক্ষিত(৪,৫,৬) সদস্যা মোছা. ববিতা বেগম জানালেন,” ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমাদের প্রাপ্য ভাতার অংশ না পেয়ে আর্থিক দূরাবস্থায় রয়েছি।” স্থানীয় সরকার কাবিখা,কাবিটা,টিআর,এডিপি, ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা,বিশেষ থোক বরাদ্দ( যদি থাকে) দিয়ে সরকারি ভাতার অংশ মেটালেও ইউনিয়ন পরিষদের দেয় ভাতার অংশ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পরিষদের সকল সদস্য-সদস্যাগণ