যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের পর এবার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্রেটিক দলের হাতে যাচ্ছে।
৪৩৫টি আসনের এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে অন্তত ২১৮টি আসনে জয় প্রয়োজন ছিল।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যেই ২২০টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত ফলাফলে তারা কমপক্ষে ২৫৫টি আসনে বিজয়ী হতে যাচ্ছে। আগামী ৩ জানুয়ারি ডেমোক্র্যাটরা কক্ষটির দায়িত্ব গ্রহণ করলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবারের মতো এমন এক কংগ্রেসের মুখোমুখি হবেন, যেখানে তার দলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটাররা ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের অজনপ্রিয় নীতিমালার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে অভিবাসন নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ, আট মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধ এবং মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ভোটারদের রায়কে প্রভাবিত করেছে। পূর্ব উপকূল থেকে শুরু করে টেক্সাসের রিও গ্রান্ডে ভ্যালি পর্যন্ত রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অনেকগুলো আসনে ডেমোক্র্যাটদের এই ‘নীল ঢেউ’ বা বড় জয়জয়কার দেখা গেছে, যা গত নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের কারনে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও অন্যান্য জিনিসের দাম বেড়ে গিয়েছিল।
পেনসিলভানিয়ায় দায়িত্ব পালনরত চারজন রিপাবলিকান প্রতিনিধি পরাজিত হয়েছেন। এর মধ্যে বব হার্ভি হারিয়েছেন প্রবলেম সলভার্স ককাসের নেতা ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিককে। জ্যানেল স্টেলসন হারিয়েছেন ফ্রিডম ককাসের সাবেক চেয়ারম্যান স্কট পেরি’কে, আর বব ব্রুকস ও পেইজ কগনেটি পরাজিত করেছেন যথাক্রমে রায়ান ম্যাকেঞ্জি ও রব ব্রেসনাহানকে। এছাড়া ভার্জিনিয়া বিচে ইলেইন লুরিয়া জেন কিগানসকে হারিয়ে নিজের পুরোনো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন এবং শ্যানন টেলর রিপাবলিকান রব উইটম্যানকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছেন।
নিউ জার্সির পরিচিত মুখ টম কিন জুনিয়র পরাজিত হয়েছেন রেবেকা বেনেটের কাছে। ইন্ডিয়ানার ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া স্পার্টজ, যিনি প্রায়ই রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছেন, তিনিও পরাজিত হয়েছেন। কলোরাডোতে ম্যানি রুটিনেল বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন গেব ইভান্সকে। ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল রিচার্ড ওজেদা জুনিয়রের জয়, যিনি রিপাবলিকান প্রচার শাখার প্রধান রিচার্ড হাডসনকে পরাজিত করেছেন। হাউস রিপাবলিকানদের প্রধান হিসেবে হাডসনের দায়িত্ব ছিল দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখা, যা এই পরাজয়ের মাধ্যমে ব্যর্থ হয়েছে। যেহেতু ডেমোক্র্যাটরা সিনেট এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস— উভয়কক্ষে ইতোমধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সফল হয়েছেন, সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই পুরো কংগ্রেস এখন তাদের দখলে।