মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের অবস্থানে অনড়। সিবিএস নিউজের সঙ্গে এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি ডেমোক্র্যাটদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলেও তিনি নির্বিঘ্নে নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন। এ ক্ষেত্রে তার প্রধান অস্ত্র হবে ভেটো ক্ষমতা। নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে অভিহিত করতেও তিনি আপত্তি জানাননি। প্রয়োজনে ডেমোক্র্যাটদের আনা যেকোনো আইন ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কয়েকটি রায় প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে ‘ট্রাম্প বনাম স্লটার’ মামলার রায়কে তিনি অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এই রায়ের ফলে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা, কমিশন ও বোর্ডের ওপর প্রেসিডেন্টের অভূতপূর্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, স্লটার মামলায় আমরা জিতেছি এবং এই রায় প্রেসিডেন্টকে এমন ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে, যা আগে কখনো ছিল না।

হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, অভিবাসন ও বাণিজ্য সংক্রান্ত নানা বিষয়ে নতুন নির্বাহী পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। এই প্রক্রিয়ায় বাজেট দপ্তরের পরিচালক রাসেল ভট ও ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ট্রাম্পের বিশ্বাস, ডেমোক্র্যাটরা শুরুতে তার গৃহীত পদক্ষেপের বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, ইতিহাস বলে, কয়েক মাস ভেটো দেওয়ার পর একসময় তারাই বলবে আমাদের কোনো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে ট্রাম্প জানান, নির্বাচনের আগে ২৯ দিনে ৩৩টি সমাবেশ করেছেন তিনি, যা দলের পক্ষে জনসমর্থন বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। মাঠের রাজনীতির বাইরে ওয়াশিংটনের অবকাঠামো সংস্কার, নতুন বলরুম নির্মাণ এবং ২৫০ ফুট উচ্চতার বিজয়তোরণ নির্মাণের মতো উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও রয়েছে তার। তবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রশ্নে উপদেষ্টাদের সঙ্গে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।