ঢাকা, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

চিফ প্রসিকিউটরের পাঠানো চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও তার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন। এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদ পরিবার ও ভিক্টিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সব সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন। সরকারের তত্ত্বাবধানে সম্পত্তি না নিলে দণ্ডিতরা তা ভোগ, বিক্রয় বা হস্তান্তরের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশকে নিষ্ফল করে দিতে পারে। তাই অবিলম্বে সব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শহীদ পরিবার ও ভিক্টিমদের সহায়তায় কাজ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এমতাবস্থায়, অনতিবিলম্বে দণ্ডিত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রনয়ণ করে, তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশমতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও ভিক্টিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিলিবন্দোবস্ত করার। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিহত ও আহত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারবর্গকে জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা অন্যকোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। হানিফসহ চার আসামির সম্পদের অর্ধাংশ বাজেয়াপ্ত।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক ওই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এদিকে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য এক মামলায় ১৫ সেপ্টেম্বর ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চের ওই রায়ে কাদের ছাড়াও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদ বিক্রির অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে।

অন্যদিকে, ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-২ অপর একটি রায়ে মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড এবং সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে এই রায়েও দণ্ডিতদের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শুধু শেখ হাসিনা বা আসাদুজ্জামান খান কামালই নয়, ট্রাইব্যুনালের অন্য যেসব রায়ে সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলোর বাস্তবায়নেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রদান করা হবে।