ঢাকা, ০১ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া পর্যন্ত ভারতকে করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নদীতে পানি না এলে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোও সম্প্রচারের সুযোগ পাবে না। একইভাবে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারের সুযোগও দেওয়া উচিত নয়। আমরা চাই, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হোক। রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত জাতীয় যুবশক্তি সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ।
তিনি বলেন, যদি নদীতে পানি না আসে, তবে কোনো ধরনের করিডোর বা ট্রানজিট কার্যকর হবে না। এছাড়া মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে জাপানের সঙ্গে করা চুক্তি ও আলোচনার বিস্তারিত জনগণের কাছে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, সংস্কারের জন্য ঐকমত্যের কমিশন ও গণভোট হলেও নির্বাচনের পর সরকার সব প্রত্যাশা অস্বীকার করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজপথ এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও বর্তমান সরকার তা উপেক্ষা করছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজপথে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণভোটে ভোট দিয়ে জনগণ তাদের মতামত জানিয়েছে। রাজনৈতিক মামলাকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংস্কারের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে দেখলাম সরকার সবকিছুকে অস্বীকার করল। তরুণদের জন্য ঋণ, প্রশিক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। যারা আপনার সমস্যা তৈরি করবে, তারা আপনার আশপাশেই রয়েছে।
সরকার নতুন যে কমিটি গঠন করেছে, সেখানে বিরোধী দল কোনো আলোচনায় যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। নাহিদ বলেন, এখন সময় সংস্কারের। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের দাবি জানান তিনি। এছাড়া সংস্কার প্রশ্নে সরকারের টালবাহানা চললে পরিণতি ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। সংস্কার প্রশ্নে সরকারের টালবাহানার পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে— এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সরকার আবারও একই ধরনের চেষ্টা করছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে অতীতে যে সংকট হয়েছিল, সরকার আবারও একই পথে হেঁটে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগে চাপ সৃষ্টি করে দলীয় লোক নিয়োগের চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চাকরিতে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধেই শুরু হয়েছিল বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে এবং পুলিশ দিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না। পাশাপাশি তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে এনসিপি সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকারপ্রধানের কাছে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের মিছিল বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড দমনে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার যদি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পারে, তবে তাদের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক যুক্তি থাকে না। আপনার মন্ত্রণালয়ে অনেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন। আপনার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যও আরেকবার যাচাই করুন।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গোখরা সাপ, তাই তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামীপন্থীদের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেন। জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল। এসব বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দূরের কথা, ঘটনা ঘটার পরও তাদের গ্রেপ্তার করার মতো সক্ষমতা সরকার দেখাতে পারছে না। কারণ, আপনি বাতির নিচের অন্ধকার দেখতে পান না।