কুমিল্লা, ০১ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্র হাতে একদল কিশোরের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে ‘এসবিএস’ নামের একটি গ্যাংয়ের পক্ষে তাদের নানা ধরনের দেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামনে আসার পর পুলিশের বিশেষ অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়েছে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। নতুন করে আলোচনায় আসা ‘এসবিএস’ গ্যাংয়ের চার সদস্যকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর বলা হয়, ‘ওই সেই ট্রেন্ড, এসবিএস।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার নগরের টমছম ব্রিজ এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে ভিডিওটি ধারণ করা হয়। নিজেদের আধিপত্য ও অস্তিত্ব জানান দেওয়ার উদ্দেশ্যেই গ্যাংয়ের সদস্যরা এটি প্রচার করে। ভিডিওতে রামদা, চাপাতি ও ছেনিসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্রের উপস্থিতি দেখা গেছে। এক পর্যায়ে ‘জোরে বলো এসবিএস’ স্লোগান দিতেও শোনা যায় তাদের।

আটক চারজনের মধ্যে মো. শাওন (১৯) নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন এবং স্থায়ী বাড়ি বরুড়ার এগারো গ্রামে। বর্তমানে সে কুমিল্লা নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইসার এলাকায় ভাড়া থাকে। শাওন ‘এসবিএস’ গ্যাংয়ের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি ‘সিটিজি’ নামের আরেকটি গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করে। বাকি তিনজনের প্রত্যেকের বয়স ১৭ বছর, যাদের মধ্যে একজন লালমাই, একজন হবিগঞ্জ এবং অন্যজন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা। তারা সবাই উনাইসারে ভাড়া বাসায় থেকে গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিল। তাঁদের কয়েকজনের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ এই অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কিশোর অপরাধের আগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানান, এলাকাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পূর্বের মামলা রয়েছে। সেই মামলার সূত্র ধরেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের কোনো ধরনের তৎপরতাকে আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যারা এসব অপরাধে যুক্ত থাকবে, তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে। আটক চারজন ভিডিওতে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। গ্যাংটির বাকি সদস্যদের চিহ্নিত করে আটকের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্যাংটির অন্য সদস্যদেরও দ্রুত আটকের চেষ্টা চলছে। রাতের কুমিল্লায় ফিরেছে স্বস্তি, কিশোর গ্যাংয়ের দাপট কমলেও শঙ্কা কাটেনি।