ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে শুরু হয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশ। রোববার ভোর থেকেই রাজধানীর রামলীলা ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিজেপিবিরোধী জোটের কর্মী ও সমর্থকরা। ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সমাবেশকে ঘিরে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু মূল প্রতিবাদস্থলেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। এছাড়া সজাগ নজরদারির জন্য শহরজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ২৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা।
বিক্ষোভ মিছিলটি কনট প্লেস ও মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে শুরু হয়ে রামলীলা ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। মিছিলের কারণে দিল্লির একাধিক সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে পুলিশি ব্যারিকেড।
রামলীলা ময়দানে এখন পর্যন্ত অনেক কর্মী উপস্থিত হয়েছেন, যার মধ্যে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সদস্যরাও রয়েছেন। ময়দানটির ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার হলেও বিরোধীরা ১০ লাখ মানুষের সমাগমের দাবি করেছে। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় জমলে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই লোকজনকে আটকে দেওয়া হতে পারে। রামলীলা ময়দানে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মানুষের জমায়েত সম্ভব। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সবরকম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর মিছিল এরইমধ্যে সেখানে পৌঁছে গেছে।
অন্যদিকে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মরণে দলটির পক্ষ থেকে একই দিনে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। দুই রাজনৈতিক শিবিরের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।