ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে, আইন না মেনেই বিরোধীদল গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে কিছু বিষয়ের জন্য সাধারণ আইন প্রয়োজন, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন জড়িত। সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে তো একটা আইনি রূপ লাগবে। কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায়। তারা যেটা বলছে, তা গায়ের জোরে বাস্তবায়ন করতে হবে। এখানে কোনো আইনের দরকার নেই, সংবিধানের দরকার নেই।

অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শামসুল হুদা স্মরণে এ সভার আয়োজন করে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন।

রিজভী বলেন, জুলাই সনদে বিএনপি এবং আরও অনেক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি রয়েছে। এগুলো আলোচনা করে আগে নিষ্পত্তি করি। কিন্তু তারা কোনো কথায় শুনতে চায় না।

এ সময় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর সংবিধানের অনেক বিষয় নানা সময়ে সংশোধন করা হয়েছে, সেসবের উদাহরণ তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

প্রধানমন্ত্রীর নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিএনপি সরকার বসে নেই। প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকা ছুটে চলেছে। তিনি চীন, জাপান সফর করেছেন। ঋণ, অনুদান ও নানা সমঝোতা স্মারক চুক্তি করেছেন তিনি। যাতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসাবাণিজ্য বৃদ্ধি পায় এবং দেশে বড় বড় প্রজেক্ট গড়ে ওঠে। মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। টয়োটার মতো বিশ্বখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে চুক্তি করা হচ্ছে। এসব লক্ষ্য নিয়ে সরকার নিরলস কাজ করছে। প্রান্তিক ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে, যা দারিদ্র্যের হার অন্তত ৫ শতাংশ কমাবে বলেও উল্লেখ করেন।

স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শামসুল হুদা ছিলেন প্রায় ৪০ বছরের পরীক্ষিত ও বিনয়ী এক রাজনীতিক। কোনোদিন কারো সঙ্গে ঝগড়া করেননি বা সংঘর্ষে জড়াননি। আজ যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন বাড়ছে, তখন তার মতো অভিভাবকতুল্য নীতি-আদর্শে অটল নেতার অভাব আমরা তীব্রভাবে অনুভব করি।

এর সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রিজভী বলেন, জামায়াতের লংমার্চ করার যৌক্তিকতা কি তা জনগণ জানে না, আমরাও বুঝতে পারছি না। তেল গ্যাসের সংকট কি বিএনপি সরকার তৈরি করেছে? গ্যাস কি বাংলাদেশ থেকে পাচার করে দিয়েছে সরকার? এই সংকট আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধের কারণে। সরকার বিকল্প উৎস মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আনা শুরু করেছে। সারা দেশে জ্বালানি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসছে। এটাতে লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, সরকার ইতিবাচক রাজনীতি শুরু করেছে। এতে বিরোধী দলের রাজনৈতিক শূন্যতা বা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মানুষের কাছে কিছু একটা দেখাতে হবে, এজন্য লংমার্চে কর্মসূচি দিয়েছে বিরোধী দল। এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই। জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্যতাও নেই।

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন প্রমুখ।