নাটোরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে নূরুজ্জামানকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। প্রথম দফায় তিন দিনের রিমান্ড মেয়াদ শেষ হলে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে গুরুদাসপুর আমলি আদালতে হাজির করে এই নতুন আবেদনের কথা জানানো হয়।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আমলি আদালত রিমান্ড আবেদনের শুনানিটি নিয়মিত আদালতে প্রেরণের আদেশ দেন এবং আসামিকে আপাতত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আদালতের এই সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করেন। ডিবির ওসি জানান, আগের রিমান্ডে অভিযুক্ত নূরুজ্জামান গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন, যা যাচাই-বাছাই ও সত্যতা নির্ধারণের স্বার্থে তাঁকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে নিয়মিত আদালতে এ বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি হতে পারে। দুই ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে।
মামলায় অভিযুক্ত নূরুজ্জামান নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে। অন্যদিকে নিহত শাকিল ইসলাম ছিলেন ওই এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের রাজনৈতিক অনুসারী। স্থানীয় ছাত্রদলের সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্যের দুই ছেলের পৃথক অনুসারী দল রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ চলছিল। নাটোরে ছাত্রদল নেতার জানাজা শেষে এমপির ছেলের ঘনিষ্ঠ প্রবাসীর শপিংমলে হামলা–লুটপাট।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাতে একদল দুর্বৃত্তের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন শাকিল ইসলাম। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ ১২ দিন পর ২৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হামলার পর পরই শাকিলের বাবা রবিউল করিম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন, যা পরবর্তীতে শাকিলের মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপ নেয়। সেই মামলার তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই গত ২৬ অক্টোবর নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। علاوهبراین, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বৃহস্পতিবার মো. আলামিন (২৫) ও আনিছুর রহমান (২৬) নামের আরও দুজনকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শাকিলের মৃত্যুর পর নূরুজ্জামান গ্রেপ্তারের পরপরই এমপি আবদুল আজিজকে জড়িয়ে একটি অডিও-ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ ও সাংগঠনিক বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য জেলা বিএনপি এক বিশেষ জরুরি সভার আয়োজন করে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ এবং সদস্যসচিব আসাদুজ্জামানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জানান, দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় শাকিলের আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এমপি আবদুল আজিজ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকলেও তাঁকে বহিষ্কার করার সরাসরি এখতিয়ার জেলা কমিটির নেই। তাই ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে, যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি। পাশাপাশি তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত করবে। পাশাপাশি তাঁর ছেলের অপরাধের বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থা দেখবে।