বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু ও পরিচিতজন দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সূত্রমতে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সৌরির বলে শনাক্ত করা হয়।
নিখোঁজ হওয়ার আগে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের গ্যারেজে তাহসিফ ও দীপকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের হাত মিলিয়ে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে চলে যেতে দেখা যায়। তাহসিফের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে দীপ দাবি করেছিলেন, মোটরসাইকেলের সমস্যা থাকায় তারা ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন এবং কাজ শেষে খাবার খেয়ে তিনি চলে যান। বিকেল সাড়ে ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মোটরসাইকেল ঠিক করার পর তারা বাসায় ফিরে খাবার খান।
এর আগে ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তুরাগ নদে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। পকেটে থাকা আইফোন ও হাতঘড়ির মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় এবং বিকেলে জানাজা শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাহসিফের মৃত্যু রহস্য উন্মোচন এবং এ ঘটনায় দীপের প্রকৃত ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখন তদন্তসাপেক্ষ। তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে আমার আর বিস্তারিত কিছু জানা নেই।