ঢাকা, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির অকাল প্রয়াণে তার পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকের মাঝে রয়েছেন। তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম জানিয়েছেন, তাহসিফ মৃত্যুর আগে কোনো একটি বিষয় নিয়ে বেশ আতঙ্কিত ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এমন উদ্বেগ বোধ করছিলেন, তা পরিবারের সদস্যদের অজানা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে তাহসিফের এক পরিচিত ছোট ভাই তাকে ডাকলে তিনি বাসা থেকে বের হন। উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের করবী ভবন থেকে বের হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে দ্বীপের সঙ্গে কথা শেষ করেই ফিরে আসবেন। সারাদিন মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা এবং বাবার জন্য উপহার কেনার মধ্য দিয়ে দিনটি কাটিয়েছিলেন তাহসিফ। কিন্তু রাতে বাসায় না ফেরায় পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের মোবাইলে তাহসিফের পাঠানো একটি বার্তায় তিনি দ্রুত বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। এরপরই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাতে মাকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, বাসায় ফিরছেন। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার আগের ঘটনা বর্ণনা করে এনায়েতুল করিম বলেন, ‘যেদিনের ঘটনা ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পরে, সারাদিন আমার মায়ের সঙ্গে ছিল। তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ওর মা অনেকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ও ফেরে নাই এবং রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সে মেসেজ দিয়েছে যে সে আসছে, আম্মু আমি আসছি—এরম গোছের একটা ব্যস্ত মেসেজ দিয়েছে। বাবার জন্যও কিছু জিনিস কিনেছিলেন তিনি। দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে আসার কথা জানিয়ে তাহসিফ নিচে নেমে যান। তো এনিওয়ে, সন্ধ্যার পরে ওর একটা জুনিয়র মানে বন্ধু, ছোট ভাই উঠে এসে নিচ থেকে ডাকে যে কথা বলতে।

পরদিন বুধবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। ছেলের খোঁজ না পেয়ে তাহসিফের বাবা বুধবার দুপুরে উত্তরা থানায় যোগাযোগ করেছিলেন। সেখানে প্রাথমিক কোনো তথ্য না পাওয়ার পর সন্ধ্যায় উত্তরখান থানার ওসির মাধ্যমে তিনি মর্মান্তিক এই সংবাদটি পান।

পরিবারের ভাষ্যমতে, রাজাবাড়ী ঘাটের ওই এলাকাটি তাহসিফের পরিচিত জায়গা নয় এবং সেখানে সাধারণত তার যাওয়ার কোনো কারণ ছিল না। তিনি নিয়মিত যাতায়াত করতেন এমন কোনো এলাকাও এটি নয়। এদিকে, ঘটনার দিন তাহসিফ যে মোটরসাইকেলটি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর সেই বাহনটিরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তাহসিফের মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন স্বজনরা। পুরো বিষয়টি নিয়ে শোকের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।